স্বপ্নের পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্মা সেতু

স্বপ্নের পদ্মাসেতু আর স্বপ্নে নেই। সেতুটির নির্মাণ কাজ ক্রমাগত এগিয়ে চলছে। মাত্র নয় দিনের মাথায় পদ্মাসেতুর ২৪তম স্প্যান বসানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার বেলা সোয়া একটার দিকে স্প্যানটি বসানো হয়। সেতুর জাজিয়া প্রান্তের ৩০ ও ৩১ নম্বর খুঁটির ওপর এটি বসানো হয়। এতে সেতুর ৩ হাজার ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হলো। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি পদ্মাসেতুর ২৩তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে স্প্যান বসাতে পারলে আগামী জুলাই নাগাদ ৪১টি স্প্যান বসানো শেষ হবে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুর উপরিভাগ দিয়ে চলবে গাড়ি, আর নিচ দিয়ে চলাচল করবে ট্রেন। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে। পদ্মা সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে বর্তমানে কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৬টির। সেতুতে ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্লø্যাবের মধ্যে ৫১০টি রেল স্ল্যাব বসানো  হয়েছে। ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১৬৫টি স্ল্যাব বসানো শেষ হযেছে।

 পদ্মা সেতুর মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে চীন থেকে মাওয়ায় এসেছে ৩৩টি স্প্যান। এর মধ্যে ২৪টি স্প্যান বসানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম স্প্যান বসানো হয়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ জানে, ফেরি পাড়ি দিয়ে পদ্মা পার হওয়া ভয়ঙ্কর এক অস্বস্তিকর ও দীর্ঘ ভোগান্তির কাজ। এর মধ্যে যথেষ্ট বিড়ম্বনা ও ঝুঁকিও রয়েছে। রয়েছে মৃত্যু ঝুঁকিও। ফলে ৭-৮ ঘন্টার পথ পাড়ি দিতে ১২ থেকে ১৮ ঘন্টা লেগে যায়। আজকে এই সেতু নির্মাণের সংবাদে পদ্মা পাড়ের মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছেন। কেননা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে এ সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে। এই সেতু হলে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক পথে যুক্ত হবে দক্ষিণাঞ্চল। চলবে ট্রেনও। এশিয়ান হাইওয়ের পথ হিসেবেও সেতুটি ব্যবহৃত হবে। আর অর্থনীতিবিদরাও মনে করেন, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে।