স্বপ্নপূরণের আরেক ধাপ

স্বপ্নপূরণের আরেক ধাপ

অপার সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল একদিন, অনেক বাধা ও বিপত্তি পেরিয়ে সেই স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো অষ্টম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর ১৩৫০ মিটার অংশ দৃশ্যমান হয়েছে। শুক্রবার পদ্মাসেতুর ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পিলারের উপর স্প্যানটি বসানো হয়। এ মাসের মধ্যে আরো স্প্যান বসানো হবে। ইতিমধ্যে সেতুর প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের মধ্য সবকটি স্প্যান বসিয়ে সেতু দৃশ্যমান করা হবে বলে জানিয়েছেন সেতু সংশ্লিষ্টরা। আয়তন ও নির্মাণ ব্যয়ের দিক থেকে পদ্মাসেতু দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ৬.১ কিলোমিটারের সেতুটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের নতুন এই সেতু চালু হলে তার হাওয়া লাগবে অর্থনীতির পালে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে। সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ১.২৩ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। ২০০১ সালে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যেই পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। দ্বিতল পদ্মাসেতু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। বলার অপেক্ষা রাখেনা, একটা সময়ে পদ্মাসেতু নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও আজ আর এই সেতু স্বপ্নে আটকে নেই, যা সামগ্রিকভাবেই ইতিবাচক। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। দেশের সব অঞ্চলের সমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে এ সেতু অবদান রাখবে। যে কারণে স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে- এমনটিই আশা করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।