স্বপ্ন সেতুর কর্মযজ্ঞ

স্বপ্ন সেতুর কর্মযজ্ঞ

অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে সমৃদ্ধ আগামীর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল একদিন, অনেক বাধা ও বিপত্তি পেরিয়ে সেই স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, পদ্মা সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৪ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। মূল সেতুর সব পিলারের পাইল ড্রাইভিং এবং ৪২টি পিলারের মধ্যে ৩২টি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তা ছাড়া চীন থেকে মাওয়ায় এ পর্যন্ত ৩১টি স্প্যান এসেছে। যার মধ্যে ১৪টি পিলারে স্থাপন করা হয়েছে। ১৫তম স্প্যান জাজিরা প্রান্তে ২৩ ও ২৪ নম্বর পিলারে স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। আর ৪টি স্প্যান কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে ও ১০টি স্প্যান পদ্মার চর এলাকায় আছে স্থাপনের অপেক্ষায়। দ্বিতল পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙ্গার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির  উপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। তার ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে হতে যাচ্ছে এ সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে। সুষম উন্নয়ন ছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রত্যাশা। সে প্রত্যাশা পূরণেও পদ্মা সেতুর নির্মাণের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। আমরা আশা করব যথাসময়ে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি এ সেতু নির্মাণের সুফল যাতে দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ দ্রুত ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করণে আনুষঙ্গিক সব ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মাসেতুর মধ্য দিয়ে।