* ২০ স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ৪৬ মরদেহ ২১ মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি

স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ৪৬ মরদেহ ২১ মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : চকবাজারের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪৬টি মরদেহ শনাক্ত করে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ করেছে পুলিশ ও ঢাকা জেলা প্রশাসন। তবে পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ২১টি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে ফ্রিজ নষ্ট থাকায় সংরক্ষণের জন্য মরদেহগুলোকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের মর্গে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গের সামনে ঢাকা জেলা প্রশাসনের তথ্যকেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মনসুর  জানান, এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো নিতে স্বজনরা আসছেন। তাদের তথ্য সংগ্রহ করে মরদেহ সংগ্রহের ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। এখান থেকে সার্বিক সহযোগিতা ও মরদেহের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, বাকি ২১টি মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা আবশ্যক। এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মনসুর বলেন, বাকি মরদেহগুলো পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সিআইডির একটি দল আসবে ডিএনএ পরীক্ষা করতে। এদিকে মর্গের ফ্রিজ নষ্ট থাকায় সবগুলো মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। তাই মরদেহগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনা দুইদিন আগের অর্থাৎ বুধবার রাতে। যে কারণে মরদেহগুলো হিমাগারে রাখা খুব জরুরি। আর ঢামেকের মর্গের ফ্রিজ নষ্ট থাকায় সেগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগার ছাড়া জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহ রাখা আছে। এখান থেকে স্বজনেরা যদি কোনো মরদেহ শনাক্ত করতে যেতে চান তাহলে এসব হাসপাতালে আমাদের নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে পাঠানো হবে। এছাড়া এখনও বিভিন্ন স্বজনরা মর্গের সামনে আসছেন, মরদেহ শনাক্ত করছেন। মরদেহগুলো চকবাজার থেকে ব্যাগে ভর্তি করে শুধু ব্যাগ নাম্বার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো তথ্য নেই। স্বজনরা শনাক্ত করতে না পারলে ডিএনএ টেস্টের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

২০ স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ : এদিকে বাকি ২১ মরদেহের মধ্যে ১৫ মরদেহ শনাক্তের জন্য ২০ জন স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি আরও ৬ মরদেহ শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ নমুনা দিতে আসেননি স্বজনরা। শুক্রবার দুপুরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী ডিএনএ অ্যানালিস্ট নুসরাত ইয়াসমিন  এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নুসরাত ইয়াসমিন বলেন, আমরা সকাল ১১টা থেকে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ১৫ মরদেহের জন্য ২০ জন স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বজনদের মধ্যে বেশিরভাগই ভাই-বোন এসেছেন। কিন্তু ডিএনএ টেস্টের ক্ষেত্রে বাবা-মা’র স্যাম্পল বেশি কার্যকরী। তাই আমরা এরপরে যারা আসবেন তাদের বাবা-মা আসার পরামর্শ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, যাদের ভাই-বোনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে প্রয়োজনে তাদের বাবা-মা’র নমুনাও সংগ্রহ করা হবে। সেক্ষেত্রে তাদের সিআইডির কার্যালয়ের ল্যাবে যেতে হবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিএনএ টেস্টের ফলাফল সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে ডিএনএ স্যাম্পলের ওপর। অনেক সময় ১ থেকে ৩ মাস লেগে যায়। তবে, এক্ষেত্রে কত সময় লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ মরদেহগুলো পুড়ে গেছে।