সৌদিতে নারী গৃহকর্মি প্রেরণ নয়

সৌদিতে নারী গৃহকর্মি প্রেরণ নয়

বিদেশ ফেরত নারীদের পাশে রাষ্ট্রসহ সবাইকে থাকার আহবান জানিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, বাংলাদেশি নারীদের কেন গৃহকর্মি হিসেবে বিদেশে পাঠাতে হবে, যেখানে তারা নিরাপদ নয়। তিনি সম্প্রতি রাজধানীতে ব্র্যাক আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। আমরা জানি যে মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মিরা প্রায়শই নির্যাতনের শিকার হন। বাংলাদেশ থেকেও যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানো হয়। সেহেতু নির্যাতনের বিষয়টি জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি ও কর্মসংস্থানের আশায় অনেক নারী পাড়ি জমান বিদেশে। সম্প্রতি বিদেশ থেকে চুক্তি অনুযায়ী কাজের মেয়াদ শেষ না করেই দেশে ফিরে এসেছেন অনেক নারী শ্রমিক। দেশের নিবর্তনমূলক পরিবেশ থেকে বাইরে গিয়ে আরো বেশি নির্যাতনের মধ্যে পড়ছে তারা।

নারীরা কী পরিমাণ অসম্মান ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা গণমাধ্যম মারফত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ নারী গৃহকর্মি দেশে ফিরে আসছে। তাদের সবার অভিজ্ঞতা কমবেশি একই রকম। তারা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে দিনের পর দিন। ফেরত আসার আগে নিয়োগকর্তা থেকে পালিয়ে বা বিতাড়িত হয়ে তাদের প্রত্যেকেই বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোমে ছিলেন। পাসপোর্টও ছিল না অনেকের। দূতাবাস থেকে দেওয়া ট্রাভেল আউটপাসে দেশে ফিরে এসেছেন হতভাগ্য নারী শ্রমিকরা। এ ক্ষেত্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য খুবই প্রনিধানযোগ্য বলে আমরা মনে করি। যেসব দেশে নারী গৃহকর্মি পাঠানো হবে, সেসব দেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা যাতে আদায় করা যায় সে বিষয়েও উদ্যোগী হতে হবে। প্রবাসী কর্মিদের আয় জাতীয় অর্থনীতির জন্য খুবই দরকারি। তবে তা মানুষের ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে কাম্য হতে পারে না।