সৌদি যুবরাজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাদশাহ সালমানের পদক্ষেপ

সৌদি যুবরাজের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাদশাহ সালমানের পদক্ষেপ

করতোয়া ডেস্ক : সৌদি আরবের রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে। রাজ পরিবারের ঐক্য অটুট থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে সৌদি বাদশাহর ভাইয়ের আনুগত্য নিয়ে যেমন বিতর্ক হয়েছে, অন্যদিকে তেমন বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সিদ্ধান্ত নিয়েও হয়েছে সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে ছেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হয়েছে তার বাবাকে। দেশটির সংবাদমাধ্যম আল খালিজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবাদ মাধ্যম মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, যুবরাজের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়ে বাদশাহ সালমানই সৌদি আরামকোর শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। তাছাড়া ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুবরাজ সালমানের মার্কিন পক্ষপাতের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিয়েছেন বাদশাহ সালমান। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যেখানে বলেছিলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে ফিলিস্তিনিদের উচিত মুখ বন্ধ রাখা উচিত’ সেখানে বাদশাহ সালমান নিশ্চিত করেছেন, ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সৌদি আরব তাদের পাশে থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন রাজ পরিবারে চলতে থাকা এমন মতবিরোধের কারণে দেশটির ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। আল খালিজ জানিয়েছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভুল পদক্ষেপের কারণে শাসনতান্ত্রিক বিষয়ের লাগাম নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন বাদশাহ সালমান।

 বাদশাহ ও তার পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে মতপার্থক্য তীব্র হয়েছে। ‘ছেলের করা ক্ষতির পরিমাণ কমাতে’ বাদশাহ সালমান নিজই সৌদি আরামকোরর আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বাদশাহ সালমানের এমন সিদ্ধান্তকে ‘পুত্রকে বাদশাহ সালমানের নতুন থাপ্পড়’ আখ্যা দিয়েছে আল খালিজ। তাছাড়া যুবরাজ হওয়ার পর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র বিষয়ে তার নেওয়া পদক্ষেপের কারণে রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ বেড়েছে। শাসক পরিবারটির মধ্যে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বিরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে বাদশাহ সালমানের ভাইয়ের দূরত্ব বজায় রাখার ঘটনাতেও। বাদশাহ সালমানের ভাই আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ তার ভাই ও ভাতিজার নীতির সঙ্গে একমত হতে না পেরে দূরে রয়েছেন কি না এ নিয়ে উঠেছে গুঞ্জন। এমন কি তার আনুগত্য নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। লন্ডনে চিত্রিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। এই ভিডিওর কারণে সৌদি আরবের রাজপরিবারের মধ্যে তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

 তার মন্তব্যে এমন ছিল যাতে মনে হয় রাজপরিবারের সঙ্গে তার স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে চাপ এতো বেশি হয়েছিল যে আব্দুল আজিজ বিবৃতি দিয়ে আনুগত্যের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। কি বলেছিলেন আব্দুল আজিজ? বিক্ষোভকারীদের প্রতি তার বক্তব্য ছিল, বাদশাহ সালমান ও তার ছেলের কাছে অভিযোগ না দিয়ে আব্দুল আজিজ ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের কাছে অভিযোগ জানানো অর্থহীন। তার বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে মিডিল ইস্ট মনিটর, ‘পরিবারের এখানে কি করার আছে? এর জন্য পরিবারের গুটিকয় সদস্য দায়ী... বাদশাহ ও তার ছেলে।’ এই মন্তব্যের জেরে পরে আবুদ আজিজকে পরিবারের ঐক্যের ঘোষণা দিতে বিবৃতি পেকাস করতে হয়েছিল। আল খালিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ পরিবারের ভেতরে থাকা এই মতদ্বৈততার কারণে দেশটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও প্রভাব পড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার মধ্য দিয়ে অনেক বড় আঘাত পেয়েছে ‘ভিশন ২০৩০।’ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আধুনিক সৌদি আরব গড়ার স্বপ্নের প্রতি এটা অনেক বড় বাধা। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম। দেশটির তেল সম্পদ শেষ হতে থাকার প্রেক্ষিতে তিনি নিজেকে সৌদি আরব ও এর জনগণের জ্ঞানী রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত করে তুলতে চেয়েছিলেন। তার সংস্কারবাদী পরিকল্পনায় এমন চিন্তারই ছাপ রয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেছেন যুবরাজে ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে পারে।