সোনাতলায় লাশ পরিবহন করে রাজ্জাকের ৩০ বছর পার!

সোনাতলায় লাশ পরিবহন করে রাজ্জাকের ৩০ বছর পার!

বদিউদ-জ্জামান মুকুল, সোনাতলা (বগুড়া) : ছোট বেলায় বাবা-মা হারা আব্দুর রাজ্জাকের বয়স যত বাড়তে থাকে সে ততই সাহসী হয়ে ওঠে। তার বয়স যখন ১৭/১৮ তখন লাশ পরিবহন পেশায় পা পাড়ায়। সেই থেকে দীর্ঘ ৩০টি বছর লাশ পরিবহন করে সংসারের ঘানি টেনে  চলেছে দরিদ্র রাজ্জাক। এখন তার বয়স পঞ্চান্ন বছর। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চকনন্দন এলাকার মৃত ছামেদ আলীর ছেলে মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। বাড়ির মাত্র ৭ শতক ভিটেমাটি ছাড়া ফসলী কোন জায়গা জমি নেই তার। আব্দুর রাজ্জাক ৩ ছেলের বাবা। কিশোর বয়স থেকেই অসীম সাহসের অধিকারী আব্দুর রাজ্জাক গোটা উপজেলার অস্বাভাবিক, খুন ও হত্যা হওয়া মৃত ব্যক্তিদের লাশ বহন করে সংসার চালিয়ে আসছে। সোনাতলা থেকে বগুড়া জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ৩১ কিলোমিটার। লাশের গাড়ি বহন করে এই পথ অতিক্রম করে লাশ জেলা সদরে নিয়ে যাওয়া ও আনার জন্য থানা পুলিশ তাকে কখনও ৪ হাজার আবার কখনও সাড়ে ৪ হাজার টাকা দেয়।

 এই টাকায় রাজ্জাকের পরিবার পরিজন ভাল আছে। লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে রাত দিন যেন তার কাছে সমান। যখনি লাশ পরিবহনের  জন্য শুধু রাত আর দিন নয়, তার কাছে যেন ঝড়বৃষ্টি কোন বাধা নয়। লাশ পরিবহন করা এখন তার নেশায় পরিনত হয়েছে। এমনকি গলিত অর্ধ গলিত পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রেও তার কোন আপত্তি নেই। প্রতি মাসেই ৫ থেকে ৮টি লাশ পরিবহন করতে হয় তাকে। এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার বসতবাড়ি ছাড়া কোন জায়গা জমি নেই। ছোট বেলায় বাবা মাকে হারিয়েছি। একটু বড় হওয়ার পর অভাব অনটনে যখন দিশেহারা তখন লাশ পরিবহনের এই পেশাতে পা বাড়াই।

 এভাবেই এই পেশায় কেটে যায় দীর্ঘ ৩০ বছর। ডাক পেলেই রাত নেই দিন নেই ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে লাশের গাড়ি নিয়ে ছুটে যাই ময়না তদন্তের কাজে। এ বিষয়ে সোনাতলা থানার এস আই মহিউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন হলো আব্দুর রাজ্জাক লাশ পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকায় সে এ বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। তার গাড়িতে লাশ দিয়ে পুলিশকে বাড়তি টেনশন করতে হয় না। সে লাশের সকল কাগজপত্রের কাজও সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে পারে । এ ব্যাপারে সোনাতলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ চৌধুরী জানান, সরকার প্রতিটি লাশ পরিবহনের জন্য আড়াই হাজার টাকা দিলেও লাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যয় হয় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। কেউ লাশ পরিবহন করতে চায় না। সেক্ষেত্রে একমাত্র আব্দুর রাজ্জাকের উপর নির্ভর করতে হয়  লাশ পরিবহনের জন্য।