সোনা পাচার চক্র

সোনা পাচার চক্র

ভারতে সোনা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে হযরত শাহ জালাল (র) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সোনার বড় বড় চালান ধরা পড়ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। শুধু বিমান বন্দর নয়, স্থলপথেও সোনা পাচারের ঘটনা ঘটছে। ইতিপূর্বে বেনাপোল সীমান্ত থেকে পাচারের সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৭৫ কেজি সোনা। বেনাপোল ঘটনার মাত্র একদিন আগে শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে আটক করা হয় ১২ কেজি সোনা সহ এক ভারতীয় নাগরিককে। চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টয়লেটে প্রায় ৪ কোটি টাকা মূল্যমানের ৭০টি সোনার বার পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। শুক্রবার পরিত্যক্ত অবস্থায় সোনার বারগুলো উদ্ধার করা হয়। দুপুরে মাসকাট থেকে সালাম এয়ারের যাত্রীরা নামার পর বিমান বন্দরে তল্লাশি চালিয়ে টয়লেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো ৮ কেজি ১৭০ গ্রাম ওজনের বারগুলি উদ্ধার করা হয়। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী প্রায় দিনই অবৈধ সোনার চালান দেশে আসার সংবাদ উদ্বেগজনক। মূলত অধিক মুনাফার লোভের কারণেই অবৈধ পথে দেশে সোনার চালান আসছে।

শাহজালাল সহ বাংলাদেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণ সোনা ধরা পড়ে। মনে করা হয় এ সোনার সিংহভাগই ভারতে পাচারের জন্য আনা হয়। বিমান পথে বিদেশ থেকে যে সোনা চোরাচালান হয়ে আসে তার বড় জোর এক দুই শতাংশ ধরা পড়ে। মাঝে মাঝে কিছু কিছু চালান ধরা পড়লেও বেশির ভাগ নিরাপদে পার হয়ে চলে যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে প্রতিবেশি দেশ ভারতে। সোনা বহনকারীদের দু-একজন ধরা পড়লেও আড়ালে থেকে যায় গডফাদাররা। ভারত সোনা আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার পর চোরাপথে সোনা আমদানি বেড়ে যায় হু হু করে। সোনা চোরাকারবারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ৪ হাজার কিলোমিটারের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। সোনা পাচারের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট রুট হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সু-সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হয়ে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। বিমান বন্দরে পাচার সহ অন্যান্য অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নিয়ে এগিয়ে আসার কথা সরকারি মহল থেকে মাঝে মধ্যেই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না। চোরাচালান রোধে সরকার আন্তরিকতার পরিচয় দেবে। এটাই প্রত্যাশা।