সোনা চোরাচালানের ট্রানজিট রুট

সোনা চোরাচালানের ট্রানজিট রুট

চোরাই পথে দেদার সোনা আসছে দেশে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গত সোমবার সকালে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে ১২ কেজি সোনা উদ্ধার করেছেন ঢাকা কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তারপর সেসব সোনার বেশির ভাগই চলে যাচ্ছে ভারতে কিংবা অন্য কোনো দেশে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো বিমান বন্দর স্থল বন্দর বা দেশের কোন প্রান্তে সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। তবে প্রায় ক্ষেত্রেই চোরাচালানিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। এখন একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে জানা গেছে দুবাই থেকে ভারতে সোনা পাচারে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রানজিট রুট হিসেবে। হোতারা ভারতে বসে দুবাইয়ের পাচারকারিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে এই অপকর্ম। এই পাচার কাজে রয়েছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। খবর অনুযায়ী ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার হওয়া বাংলাদেশ জুড়ে রয়েছে এই পাচারকারি সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেনাপোল, কুমিল্লা ও দামুড়হুদা পয়েন্ট দিয়ে ভারতে পৌঁছে যায় দুবাইয়ের সোনার বড় চালান। সোনাপাচারের এই যজ্ঞে সরাসরি জড়িত দুবাই, বাংলাদেশ ও ভারতের প্রভাবশালী চোরাকারবারিরা। চট্টগ্রামে গত ৩ মার্চ দুটি পৃথক অভিযানে ৭০০ সোনার বার সহ গ্রেফতারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। চোরাচালান দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ  প্রতিক্রিয়া ফেলছে। কারণ বিদেশ থেকে আসা সোনার বিপরীতে পাচার  হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা। যে অর্থ ব্যয় হতে পারত উৎপাদনশীল খাতে তা ব্যয় হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। আমরা আশা করি, সরকারের নীতি-নির্ধারক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে জরুরিভাবে চিন্তাভাবনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। আমরা কোনো মতেই চাই না, আমাদের প্রিয় স্বদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধীদের লীলাভূমিতে পরিণত হোক। কঠোর হস্তে চোলাচালান রোধ করতে হবে। আমাদের মতে, সোনা চোরাচালান বন্ধে কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই।