সৈয়দপুরে শহীদদের নামে সড়কগুলোর নাম বিকৃতির অভিযোগ

সৈয়দপুরে শহীদদের নামে সড়কগুলোর নাম বিকৃতির অভিযোগ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে জাতীয় নেতা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নামকরণকৃত সড়কগুলোর নাম বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সড়কের নামকরণ শহীদদের নামে করা হয়েছিল তার সার্থকতা ভেস্তে যেতে বসেছে। নাম বিকৃতির প্রতিবাদে সৈয়দপুর শহরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুঁসে উঠেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নামে করা সড়কগুলোর নাম বিকৃতি রোধে এবং যথাযথ নামে সড়কগুলো চিহ্নিত করার দাবিতে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন ও পৌর মেয়রকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। গত বুধবার মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সন্তানদের সংগঠন ’৭১ এর পক্ষ থেকে ওই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই দিন সকালে ওই দাবিতে সংগঠনটির উদ্যোগে সৈয়দপুর পৌর মেয়র বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেড় সহ¯্রাধিক বাঙালি শহীদ হন। তাঁদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তাদের পরিচিতি তুলে ধরতে স্বাধীনতা পরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর নামকরণ করা হয় এই শহীদদের নামে। শহীদদের নামে নামকরণ করা অন্য সড়কগুলো হচ্ছে শহীদ ডা. সামসুল হক সড়ক, শহীদ জহুরুল হক সড়ক, শহীদ তুলশীরাম সড়ক, শহীদ ক্যাপ্টেন মীঢ়ধা সামসুল হুদা সড়ক ও সৈয়দপুরের প্রথম শহীদ মাাহতাব বেগ সড়ক। এছাড়া শেরে বাংলা সড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সড়ক নামে শহরে আরো দুটি সড়কের নামকরণ করা হয়।সড়কগুলোকে বর্তমানে যাচ্ছেতাই নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সড়কগুলো ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিতি পেয়েছে। শহীদ জহুরুল হক সড়ককে কামার রোড কিংবা বিচালীহাটি রোড, শহীদ তুলশীরাম সড়ককে দিনাজপুর রোড কিংবা মাড়োয়ারী পট্টি রোড, শহীদ ডা. সামসুল হক সড়ককে মাছহাটি কিংবা পুরাতন কাপড়হাটি রোড, জাতির পিতার নামে করা বঙ্গবন্ধু সড়ককে রংপুর রোড, শেরে বাংলা সড়কের নাম সিনেমা রোড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

শহরের সড়কগুলোর দুই পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বড় বড় সাইনবোর্ডে প্রকৃত নামের পরিবর্তে নতুন নামগুলো লেখা হচ্ছে। নীলফামারী জেলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নামের সাইনবোর্ড ও সব রকম প্রচার প্রচারণায় সড়কগুলোর সঠিক নাম ব্যবহারের আহবান জানানো হয়েছে। কিন্তু সে আহ্বানে অনেকেই সাড়া দেয়নি। নামফলকের স্থানগুলোও এখন স্থানীয়রা লোকজন দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও মেরামতের সময় কোন কোন নামফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপর আর সেগুলো বসানোর দরকার বলে মনে করেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এখন শুধুমাত্র শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের নামফলক চোখে পড়ছে। সেটিও অযতœ আর অবহেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক সরকার বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেন।  মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করা সড়কের নাম বিকৃতভাবে চিহ্নিত করা তাদের জন্য অসম্মান ও অবমাননাকর।