সৈয়দপুরে পুকুর ছাড়াই মাছ চাষে সফল হয়েছেন কনক

সৈয়দপুরে পুকুর ছাড়াই মাছ চাষে সফল হয়েছেন কনক

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুকুরের পরিবর্তে ইট সিমেন্টে তৈরি ট্যাংকে মাছ চাষ শুরু হয়েছে। আর সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এ প্রকল্পটি গড়ে তুলেছেন কামরুজ্জামান কনক। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি। তিনি জানান, আধুনিক এ পদ্ধতিটির নাম রিসার্কুলেটিং একুয়াকালচার সিস্টেম সংক্ষেপে ‘রাস’। উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজীপাড়া গ্রামের বাড়ির উঠানে প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পটিতে বাড়ির উঠানে ৪টি ট্যাংকে মাছ চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রতিটি ট্যাংকে ১০ হাজার লিটার পানি ধারণ করা সম্ভব হলেও ৮ হাজার লিটার পানি ভর্তি করে ছেড়েছেন ৮শ’ কেজি করে মাছের পোনা। প্রাথমিক পর্যায়ে তেলাপিয়া, শিং ও পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছেড়েছেন এসব ট্যাংকে। এ পদ্ধতিটিতে বছরে তিনবার মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রকল্পটি স্থাপনে তার খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।কনক জানান, এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল অল্প ঘনত্বে অধিক পরিমাণে মাছ উৎপাদন করা। এই পদ্ধতিতে একই পানি পুনরায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হয়ে মাছের ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়। ফলে পানি তেমন অপচয়ের সুযোগ নেই। এছাড়াও মাছের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রয়োজন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। সোলার স্থাপন করে কমিয়ে আনা সম্ভব বিদ্যুৎ খরচ। নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে থাকায় এ্যান্টিবায়েটিক এবং কোনো রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয় না। আর এ পদ্ধতিতে অর্গানিক খাবার খাওয়ানোর কারণে পুকুরে চাষ করা মাছের চেয়ে এর মাধ্যমে উৎপাদন করা মাছ অনেক বেশি সুস্বাদু হয়। এছাড়াও পুকুরে মাছের জন্য দেয়া খাবার বেশি অপচয় হয়। এখানে খাবার অপচয়ের সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতিতে ছোট পোনা ছাড়া উচিৎ নয়। একটু বড় অর্থাৎ চাপের পোনা ছাড়লে কম সময়ে উৎপাদন বেশি হয়। ওই বড় পোনায় বছরে চারবার হারভেস্টিং করা সম্ভব। এতে প্রতি কেজি মাছের উৎপাদন খরচ পড়ে ২০০ টাকা। পাবদা, দেশি শিং ও মাগুর, গুলশা, টেংরা জাতের মাছ চাষ করলে লাভ বেশি। বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার ব্যবহার করে এর খরচ কমানো সম্ভব। পুকুর না কেটে বরঞ্চ অল্প জমিতে এই পদ্ধতিতে পুকুরের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন করা যায়।

তিনি বলেন, পুকুরে যেখানে দুই কেজি খাবারে মাত্র এক কেজি মাছ উৎপাদন করা যায়, সেখানে রাস পদ্ধতিতে মাত্র এক কেজি খাবারে দেড়  কেজি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।নীলফামারীর জেলা মৎস কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, পদ্ধতিটি একেবারেই নুতন হওয়ায় আমরা ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। প্রকল্প স্থাপনে একটু খরচ বেশি হলেও সফল হলে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে।