সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে ইনসিওরেন্স ক্লেম পাওয়া যায় কি?

সেলফি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে ইনসিওরেন্স ক্লেম পাওয়া যায় কি?

 ইদানীং সেলফি তোলা নিয়ে উন্মাদনা এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছে যে, মনোবিজ্ঞানীরা কোনও কোনও ক্ষেত্রে একে ‘মানসিক ব্যাধি’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন। বিপজ্জনক ভাবে সেলফি নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যাও দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। দুর্ঘটনা যে কোনও সময় হতে পারে। তাই আজকাল অনেকেই দুর্ঘটনা বিমা করিয়ে রাখেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেলফি তুলতে গিয়ে যদি কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে, সে ক্ষেত্রে কি ইন্সিয়োরেন্স ক্লেম পাওয়া যাবে? আসুন জেনে নেওয়া যাক...

আজকাল সামান্য কিছু টাকার বিনিময়েই আপনি লক্ষ লক্ষ টাকার বিমা পেয়ে যেতে পারেন। কিন্তু আপনার অবহেলা বা অসতর্কতার কারণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে, বিমা সংস্থা ক্ষতিপূরণ দিতে নারাজ। আপনি যদি বিপজ্জনক কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে বিমা সংস্থাগুলি তার ক্ষতিপূরণ দেবে না।

যদি সেলফি নিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, সে ক্ষেত্রে পুলিশের এফআইআর-এ তার উল্লেখ থাকতে পারে। বিমা সংস্থাগুলি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বা অটোপ্সি, ভিসেরার প্রতিবেদন এবং চূড়ান্ত পুলিশি তদন্ত রিপোর্ট বা অভিযোগ পত্র ভাল করে দেখে নেয়।

 

সেলফি নিতে গিয়ে গুরুতর আঘাত লাগলে মেডিক্লেম পেতেও নানা অসুবিধা হতে পারে। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ঝুঁকি নেওয়ার ফলে যদি কেউ আহত হন, তা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনায় চিকিত্সার খরচ না-ও দিতে পারে মেডিক্লেম সংস্থা।

স্বাস্থ্য বিমায় চিকিত্সা খাতে খরচের দাবির ক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যেমন ডাক্তারের কাছ থেকে চিঠি এবং ঘটনার বিবরণ অত্যন্ত জরুরি। কেন হাসপাতালে ভর্তি হতে হল, তার যথাযথ কারণ উল্লেখ করতে হয়। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সে ক্ষেত্রে পুলিশের রিপোর্ট লাগতে পারে। মেডিক্লেম সংস্থার কাছ থেকে টাকা পেতে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হতে পারে!

কোনও ভাবে যদি বিমা কোম্পানি জেনে যায় যে, সেলফি নিতে গিয়েই দুর্ঘটনা হয়েছে এবং গ্রাহক অসাবধান হওয়ার ফলে বা ইচ্ছাকৃত বাড়তি ঝুঁকি নেওয়ার ফলেই ওই মারাত্মক ঘটনাটি ঘটেছে, তা হলে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যানুসন্ধান শুরু করে দেবে তারা। বিমা সংস্থার অভিযোগ বা সন্দেহ সত্যি প্রমাণিত হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেডিক্লেম না-ও পাওয়া যেতে পারে।