সূবর্ণচরে ফের গণধর্ষণ

সূবর্ণচরে ফের গণধর্ষণ

তিন মাসের মাথায় নোয়াখালীর সুবর্ণ চর উপজেলায় ফের গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এবার ধর্ষণের শিকার হলেন ছয় সন্তানের জননী। এবারও ভোটের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। সূবর্ণ উপজেলা  ভাইস চেয়ারম্যান পদে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর কয়েক সমর্থক ওই নারীকে গণ ধর্ষণ করে বলে তার অভিযোগ জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে জানা গেছে। স্বামীকে মুখ বেঁধে আটকে রেখে এ জঘন্য ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনা ঘটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে এক নারী সমর্থককে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়। ওই নারীর অভিযোগ ছিল ভোট কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের পছন্দের প্রতীকে ভোট না দেওয়ার জের ধরে ওই হামলা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে পুলিশ।

আমরা মনে করি, নারীর ওপর যৌন নির্যাতনের জবাব একটাই -দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি। কেউ যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির দু:সাহস না পায় সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকে দায়িত্বশীল হতেই হবে। সমাজে যখন আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, মূল্যবোধের ক্ষয়িষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়, তখন নানা নেতিবাচক দিক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী মানুষ আইন বা মানবিক মূল্যবোধ কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। কাজেই সংশ্লিষ্ট মহলকে এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। যে কোনো মূল্যে সামাজিক অপরাধ দমনে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। সূবর্ণ চরে দ্বিতীয়বারের মতো ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই অপরাধ দুর্র্বৃত্তরা কার সাহসে ঘটাতে পারল, সেটাও বের করতে হবে। একটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তির পথ প্রশস্ত না হওয়া মানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনআকাঙ্খার পথে বড় অন্তরায়।