সুশিক্ষায় স্ব-শিক্ষিত মানুষ চাই

সুশিক্ষায় স্ব-শিক্ষিত মানুষ চাই

মোহাম্মদ নজাবত আলী : মঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি ভারতচন্দ্র রায় গুনাকর এক কবিতায় বলেছিলেন, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে। তিনি ভারতবর্ষের সুখ শান্তি সমৃদ্ধি কামনা করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে  ও রাজনৈতিক পালা বদলে আজ আমরা স্বাধীন। এখন আমরা বলি, আমার সন্তান যেন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে। আমরা কখনো ভুলেও বলিনা আমার সন্তান যেন মানুষ হতে পারে। এর কারণ পাস করা ও শিক্ষিত হওয়া এককথা নয়- এটা আমরা স্বীকার করতে চাইনা।

ইতিমধ্যে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি সমাজেই পরিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়নে অন্যতম দিক। মূলত পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষর্থীর মেধা মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে তার মেধা মূল্যায়নে সনদ দেওয়া হয়। কিšুÍ পরীক্ষায় শিক্ষার্থীর সব কিছু শেষ হয় না। পরীক্ষকের নম্বরের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার ফল পেয়ে থাকে। বর্তমান প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষার ফলাফলে দু ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কেউ খুশি হয়, কেউ দুঃখ পায়, কষ্ট পায়। শিক্ষার্থীর মেধাকে পরীক্ষার ফলাফল ও জিপিএ দিয়ে মূল্যায়ন করার অর্থ এই নয় যে মেধা জিপিএর মধ্যে সীমাবদ্ধ। পরীক্ষায় ভাল প্রস্তুতির মধ্যে ও একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল খারাপ হতেও পারে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রশ্ন ফাঁস, কোচিং বাণিজ্য ইত্যাদি। আমাদের নতুন শিক্ষামন্ত্রী দীপুমনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে  বলেছেন, ক্লাসে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়া নিশ্চয় জরুরি, জিপিএ ৫ পাওয়া ও জরুরি।

কিন্তু সেটা একমাত্র বিবেচনার বিষয় হতে পারেনা। আমি ভালো মানুষ হলাম কি না, আমার মধ্যে মানবিকতাবোধ, নৈতিকতাবোধ আছে কি না, আমি একজন সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠলাম কি না, আমি সুস্থ, সুন্দর মন নিয়ে বড় হচ্ছি কি না সেটা সবার আগে বিবেচনার বিষয়।” মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যথার্থই বলেছেন। পাসের সাথে শিক্ষিত হওয়া মানুষ হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। সার্টিফিকেট অর্জন করা সহজ মানুষ হওয়া কঠিন। মানবিক মূল্যবোধ, নীতি আদর্শ, সততা, কর্তব্য নিষ্ঠা ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষই প্রকৃত মানুষ। কিন্তু এদিক বিবেচনায় না নিয়ে শুধু আমাদের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী বানাতে চাই। পাশাপাশি মানুষ হওয়ার যে তাগিদ তা অনুভব করিনা।   
একটি দেশের বড় সম্পদ হলো জনগোষ্ঠি। আবার এ জনগোষ্ঠি দেশের জন্য ক্ষতির কারণ বা বোঝা হতে পারে যদি না তাদের যোগ্য, দক্ষ, মানব সম্পদে পরিণত করা না যায়। একটি দেশের বিপুল জনগোষ্ঠিকে আধুনিক যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে যদি প্রকৃতপক্ষে গড়ে তোলা যায় তাহলে দেশের জন্য সবার জন্য ভালো। আর মানসম্মত ,শিক্ষাই পারে দেশকে সার্বিক দিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এ কারণে প্রতিটি দেশ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করে থাকে। সমাজ ও  যুগের চাহিদা এবং সমকালীন জ্ঞানের যে বিস্তার ঘটেছে তার দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের দেশেও একটি শিক্ষানীতি চালু করে। এ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে যেন সর্বোত্তম ফল লাভ করা যায়। সে জন্য শিক্ষা নিয়ে গবেষণা বা ভাবনার শেষ নেই। যুগে যুগে প্রতিটি দেশে জ্ঞানী গুনী মনীষীদের ভাবনায় শিক্ষাই প্রাধান্য পেয়েছে। তাই একেক সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন, বিয়োজন ও নিত্যনতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করে শিক্ষাকে অর্থবহ করা হয়েছে। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুগের চাহিদা অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করা। একটি জাতিকে কিভাবে সুশিক্ষায় সুশিক্ষিত করা যায় কিভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন করা যায় একটি দক্ষ ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন করা যায়- এ নিয়ে শিক্ষাবিদদের ভাবনার শেষ নেই। তাই বর্তমান সরকার একটি নতুন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছেন। আমরা সবাই জানি যে, একটি জাতির সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষায় প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করছে। পাশের হারের দিক থেকে দেশ এগিয়ে গেলেও শিক্ষার মান বাড়ছে কি-না এ নিয়ে শিক্ষাবিদ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্টজনদের মধ্যে মত পার্থক্য নেই। তাই এখন শিক্ষার মান বাড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ পাশ করা ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়। তবুও শিক্ষায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যে যা-ই বলুন না কেন আমাদের শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। শত ভাগ পাশের সাথে শিক্ষার মান কিভাবে বাড়ানো যায় সেটাই সংশ্লিষ্ট সকলের বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। একই সাথে সততা, দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধের অধিকারী হয়ে লাখো শিক্ষার্থীদের হতে হবে মানুষ। এই বোধোদয় জাগ্রত হোক।

আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এরা একদিন এদেশকে গড়ে তুলবে নিজের জ্ঞান, মেধা মনন দিয়ে। কারণ জ্ঞানই হচ্ছে মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এ সম্পদ যেমন কেউ কেড়ে নিতে পারেনা, তেমনি এ সম্পদ অর্জনের জন্য প্রয়োজন সর্ব দিক থেকে শিশুদের সহায়ক পরিবেশ। কিন্তু আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থা শিশুদের জন্য যথেষ্ট অনুকুল নয়। শিশু অপহরণ নির্যাতন থেকে তারা আজও নিরাপদ নয়। লেখাপড়ার তারা সুষ্ঠু পরিবেশ পাচ্ছেনা। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে উপযুক্ত পরিবেশ খেলা ধুলার সামগ্রীর যথেষ্ট অভাব রয়েছে। শিশুরা হচ্ছে ফুলের মতো যেমন পবিত্র, তেমনি কোমল প্রকৃতি। তারাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু এ ভবিষ্যৎ শিশু জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে যা কিছু সহায়ক তার সব কিছু কি তারা পাচ্ছে? তাদের মনের জোর বা ধারণ ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, এ স্বল্প বয়সে সব কিছু তারা অর্জনে সক্ষম? দুনিয়ার জ্ঞান তাদের মধ্যে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন বিষয় তাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কি সঙ্গত হবে? কথাটা এ কারণেই বললাম যে, বয়সের সাথে শিক্ষার একটি সম্পর্ক রয়েছে। আর শিক্ষা হচ্ছে অর্জনের বিষয় তাই এই অর্জনটা নির্ভর করে একজন শিশুর মনের ধারণ ক্ষমতার উপর। তাই শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত কচি কাচাঁ শিশু কিশোরদের বয়স, ধারণ ক্ষমতার দিক লক্ষ্য রেখে পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন করতে হয় যাতে করে বইয়ের বোঝা তাদের বিকাশ জ্ঞানার্জনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য, নোট গাইড শিশুদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটি বিষয় আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত যে, জ্ঞানই যেহেতু শ্রেষ্ঠ সম্পদ তাই তা অর্জনের পথ যেন সহজ হয়-সরল হয়। পাবলিক পরীক্ষায় পাশ ও জিপিএ ৫এর চিত্র দেখে আমরা খুশি হই।

 বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলতে গিয়ে আমরা শিক্ষার সঙ্গে আপোস করেছি। বহির্বিশ্বে বিশেষ করে দাতা সংস্থাগুলো চাচ্ছে বাংলাদেশ শিক্ষায় এগিয়ে যাক। কারণ বিশ্ব ব্যাংক বা অন্যান্য দাতা সংস্থা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে অর্থ বিনিয়োগ করে। তাই বহির্বিশ্ব ও দাতা সংস্থাকে খুশি করতে গিয়ে শিক্ষার সঙ্গে যে আপোস করা হয়েছে তাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। কারণ উল্লেখিত রাষ্ট্রগুলোর মতো প্রায় শতভাগ পাশ হলেও শিক্ষার গুণগত মানের দিক থেকে বাংলাদেম নি¤œমুখী এতে কোনো সন্দেহ নেই। পাশের হার ও জিপিএ-৫কে অনেকেই মনে করে গলার কাঁটা। সুশিক্ষিত মানেই স্বশিক্ষিত। তাই সুশিক্ষায় স্বশিক্ষিত ব্যক্তিই মেধা সম্পন্ন। এটা পাশ বা জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে নিজস্ব স্বকীয়তা ও আত্মবিশ্বাস ও বিকাশের উপর এবং এ আত্মবিশ্বাস ও বিকাশ শিশুরা অর্জন করে তার স্বাভাবিক গতিতে। কিন্তু অতিরিক্ত সিলেবাস, নোট গাইড, কোচিং বাণিজ্য এগুলো শিক্ষার্থীর গতিকে রোধ করে। আমরা সুশিক্ষায় স্বশিক্ষিত জাতি চাই, মানুষ চাই। তবুও কিছু মেধা সম্পন্ন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা আমাদের আশার প্রদীপ, ভবিষ্যতে তারা আমাদের সমাজকে আলোকিত করবে। প্রকৃত মানুষ হবে।

জ্ঞানই হচ্ছে সম্পদ, আবার জ্ঞানই হচ্ছে শক্তি। তাই সে জ্ঞান ও শক্তিতে পরিণত করতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ শিশুদের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। এজন্য তাদের বেড়ে ওঠার যেমন সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার তেমনি পাঠ্য পুস্তকগুলো সহজতর ও আনন্দদায়ক হওয়া উচিত। আমাদের দেশের শিক্ষাবিদ সিলেবাস কারিকুলাম প্রণয়ন কর্তা, ব্যক্তিরা পুস্তক প্রণয়নের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে করে কোমলমতি শিশুদের বিকাশের ক্ষেত্রে কঠিন না হয়। পাঠ্য পুস্তক অবশ্যই সহজ, সরল প্রাঞ্জল ভাষার রচিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে পাঠ্য পুস্তক যেন আধুনিক চিন্তা ধারায় রচিত হয়। একজন শিক্ষার্থীর দেশপ্রেম মানবিক চেতনা জাগ্রত হয়। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিকাশ লাভ করে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হয়। এটা শুধু প্রাথমিক পর্যায়েই নয় শিক্ষার সকল স্তরে হওয়া উচিত।জ্ঞান, মেধা মনন শক্তির উপযোগী এবং এ বিষয়ে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নইলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা পিছিয়ে পড়বো। বর্তমান ও অনাগত শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের সামনে সোনালী দিন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। তাদের ভবিষ্যৎ কে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করার দায়িত্ব রাষ্ঠ্রের।

 তাই রাষ্ট্রকেই শিশুর ভবিষ্যৎ  গড়ে তোলার অনুকুল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কেননা আজকের শিশুরা নানা দিক থেকে লাঞ্ছিত, নিগৃহিত অপমাণিত হচ্ছে। শিশুদের বেড়ে ওঠার অনুকুল পরিবেশ তাদের এমনভাবে গড়ে উঠবে যাতে করে প্রতিযোগিতামূলক  বিশ্বে টিকে থাকতে পারে। সর্বত্র জ্ঞানের বিস্তরণ ঘটাতে হবে। আমাদের লাখো শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে জ্ঞান, মেধা অর্জনে সামনের দিকে। আমাদের দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান সে অনুযায়ী বাড়েনি । পাশ করলে সাটিফিকেট  পাওয়া যতটা সহজ শিক্ষিত হওয়া ততটা সহজ নয়। আর শিক্ষা হচ্ছে অর্জনের বিষয় এটা অর্জন করতে হয় নিজস্ব মেধা, স্বকীয়তা দিয়ে। প্রকৃত মানুষ হতে আমাদের ভাষা শিক্ষা সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যেতে হবে এবং নিজকে বিকশিত প্রতিষ্ঠিত করতে হবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে। এটাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার যে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সার্টিফিকেট লাভ বা চাকরি পাওয়া নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন “মানুষের অভ্যন্তরের মানুষটিকে খাঁটি মানুষ বানানোর প্রচেষ্টায় শিক্ষা”। শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য নৈতিকতা অর্জন। সকল প্রকার কু-দৃষ্টি, কু-প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হয়ে সর্বক্ষেত্রে সততা, মূল্য্েবাধ অর্জনের মাধ্যমে মানুষ হওয়া। সার্টিফিকেট অর্জনের পাশাপাশি আমার সন্তান যেন প্রকৃত মানুষ হতে পারে। কর্মজীবনে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বা অন্য যে পেশায় প্রবেশ করুকনা কেন সততা, নৈতিকতা, শুভবুদ্ধির জাগরণ ঘটাতে হবে। যা করা উচিত, যা করা উচিত নয় এ মানবিক মূল্যবোধের, মনূষ্যত্বের অধিকারী হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা হওয়া উচিত।  
লেখক : শিক্ষক-কলামিস্ট
০১৭১৯-৫৩৬২৩১