সুখের আশায় সুখীর জীবন সংগ্রাম

সুখের আশায় সুখীর জীবন সংগ্রাম

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ছয় বছর বয়সেই হারিয়েছে বাবাকে। বাক প্রতিবন্ধী মা, শারীরিক প্রতিবন্ধী নানি আর মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে নিয়ে  ১২ বছর বয়সেই অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে পরিবারের হাল ধরেছে সুখী। এখানেই শেষ নয়। অনেক বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে নানা সমস্যার মধ্যে অন্যের জমিতে বাসা বেঁধেও চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। মনের মধ্যে সব সময় ভয় কাজ করে কখন যেন উচ্ছেদ হতে হয় অন্যের জমি থেকে। ভ’মিহীন এ পরিবারটির একমাত্র ভরসা সে। বর্তমানে সে ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়ালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। শত দুঃখ কষ্টের মাঝেও হাসিমুখে সুখী তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, সুখী আক্তারের বয়স যখন ছয়, তখনই দূরারোগ্য রোগে মারা যায় তার বাবা। মা শিউলি আক্তার (৪৬) বাক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও এক সময় মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি পড়ে রয়েছেন নিজ বাসাতেই। অপরদিকে শারীরিক প্রতিবন্ধী নানি হামিদা বেওয়া (৭৫) আর মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সাইফুল (৮) এর ভরণ পোষণের দায়িত্ব এসে পড়েছে সুখীর কাঁধে। তাই চার সদস্যের পরিবারের দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের সন্ধানে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের বাসায় ঝি এর কাজ করতে হচ্ছে তাকে।

সুখী আক্তার জানায়, সকাল ৬ টা থেকে সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত কাজ করেন অন্যের বাসায়। ১০ টার সময় স্কুলে যায়। বিকেলে ফিরে আবারো কাজ করতে চলে যাই অন্যের বাসায়। সে কাজ চলে রাত ১০ টা পর্যন্ত। অন্যের বাসায় কাজ করে যে খাবার টুকু পায়, রাতে বাসায় ফিরে সেটাই ভাগ করে খায় সবাই। এছাড়াও মাস শেষে কাজের যে পারিশ্রমিক পায় তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সব চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে ওঠে না । কখনও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি।

সুখী আক্তার আরও জানায়, প্রচন্ড শীতে একটা কম্বলও পাইনি আমরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ যেসব জায়গায় গিয়েছি সাহায্যের জন্য, খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে । এত কষ্টের মাঝেও তাই লেখাপড়াটা চালিয়ে যাচ্ছি ভালো কিছু করার আশায়। কিন্তু উপ-বৃত্তিটুকুও পাইনি আমি।প্রধান শিক্ষক খাশিরুল ইসলাম জানান, সুখী আমার স্কুলের নবম শ্রেণীর একজন মেধাবী ছাত্রী। সে কষ্ট করে লেখাপড়া করে জানতাম। অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালায় আর পাশাপাশি লেখাপড়াটাও চালিয়ে যাচ্ছে এটা জানতাম না। আমরা তাকে স্কুলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবো।এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পৌর এলাকা আমার আয়ত্বের মধ্যে পড়ে না। তবে তার জন্য কিছু করার বিষয়টা আমি ভেবে দেখবো।