সুখবর পেলেন ভারতের ক্রিকেটের ‘ব্যাড বয়’

সুখবর পেলেন ভারতের ক্রিকেটের ‘ব্যাড বয়’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের ষষ্ঠ আসরে টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়ের রচনা করেছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের ভারতীয় পেসার শ্রীশান্ত। যে কারণে তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এবার তার প্রতি নমনীয় হয়েছে আদালত, কমানো হয়েছে শাস্তি।

মাঠ ও মাঠের বাইরের নানান নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের ক্রিকেটের ‘ব্যাড বয়’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন ডানহাতি পেসার শ্রীশান্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি তিনি ঘটান ২০১৩ সালের আইপিএলে স্পট ফিক্সিং করার মাধ্যমে।


এ কাণ্ডের শাস্তি হিসেবে তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে ভারতের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআই। নানান দেনদরবার করেও তখন নিজের শাস্তি কমাতে পারেননি শ্রীশান্ত। এমনকি আদালতের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেও বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে খেলার অনুমতি পাননি তিনি।

তবে মাসপাঁচেক আগে সুপ্রিম কোর্টের করা পুনর্বিবেচনার সুফল পেলেন বদমেজাজি এ পেসার। প্রায় ছয় বছর নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর শাস্তি কমার খবর পেয়েছেন শ্রীশান্ত। আজীবনের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে নামানো হয়েছে সাত বছরে।

বিসিসিআইয়ের ন্যায়পাল সাবেক বিচারপতি ডি কে জেইনের দেয়া রায় অনুযায়ী আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ সবধরনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে যাবে শ্রীশান্তের। এরপর থেকে মাঠে নামতে পারবেন তিনি। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শাস্তি শুরু হওয়ার কারণেই সাত বছর পর ২০২০ সালের একই তারিখে শেষ হবে শাস্তির মেয়াদ।

শাস্তি কমানোর ঘোষণাপত্রে ডি কে জেইনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘পেসার হিসেবে ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে শ্রীশান্তের। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনও প্রকার ক্রিকেটে এবং বিসিসিআই সংক্রান্ত কোনও কাজের অংশ হতে পারেননি তিনি। এবার তার শাস্তি কমানো হলো এবং শাস্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরেই।’

ডি কে জেইন আরও জানান তার কাজে সবধরনের সহায়তা করেছেন শ্রীশান্ত। এমনকি এ পেসার কোনো কর্মকাণ্ডে আইপিএলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়নি। তিনি বলেন, ‘তদন্তে সবধরনের সাহায্য করেছেন শ্রীশান্ত। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল, তার প্রভাব আইপিএলে পড়েনি। জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়নি। এমনকি মাঠ ও মাঠের বাইরে শ্রীশান্তের বিরুদ্ধে যে খামখেয়ালি আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তাও প্রমাণ করতে পারেনি বিসিসিআই।’

উল্লেখ্য, শ্রীশান্তের বিপক্ষে অভিযোগ উঠেছিল ২০১৩ সালের আইপিএলে কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ম্যাচে। সে ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছিল শ্রীশান্তের রাজস্থানই। তবে বোলিং করার সময় বেশ কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ কাজ যেমন এক ওভারে পকেটে রুমাল নিয়ে বোলিং, হাতের রিস্টব্যান্ড নাড়াচাড়া করে সন্দেহের তীর নিজের দিকে টেনে আনেন তিনি।

পরে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে তদন্তে বেরিয়ে আসে সে ম্যাচে স্পট ফিক্সিং করেছিলেন শ্রীশান্ত। এত বড় টুর্নামেন্টে ফিক্সিংয়ের কলঙ্কের দাগ লাগানোর অপরাধে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। তবে চলতি বছর শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্ট বোর্ডের ন্যায়পালকে এ শাস্তি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়। সে মোতাবেক এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন সাবেক বিচারপতি ডি কে জেইন। যিনি শেষমেশ শ্রীশান্তের শাস্তি কমানোর সিদ্ধান্ত জানান।