সীমান্তে হত্যাকান্ড

সীমান্তে হত্যাকান্ড

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী তথা বিএসএফ’র বাংলাদেশি হত্যা কোনাভাবেই থামছে না। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক নেতাই এই হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিশ্রুতিই কাজে আসছে না। সেগুলো যেন কেবলই কথার কথা। সর্বশেষ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে ২ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ওয়াহেদপুর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নিহতরা হলো শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারপর হঠাৎ পাড়ার সাইফুদ্দীনের ছেলে সাদ্দাম ওরফে পটল (২২) ও একই উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের দোভাগী গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে রয়েল (২৩)। এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিরণগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে দুলাল (২০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন।

সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং এসব হত্যাকান্ডে বাংলাদেশ সরকার ও এদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন না হয়ে পারছে না। গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হলে বিএসএফ অজুহাত হিসেবে সাধারণত চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করে। অথচ ভারত থেকেও অবৈধ পণ্য ও মাদক রোধে ভারত সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে না। উল্লেখ্য, ভারত থেকে আসা বেশির ভাগ পণ্যই হলো মাদকদ্রব্য, ফেনসিডিল, গাঁজা, কোরেক্স ইত্যাদি। এসব মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় ভূ-খন্ডে শত শত মাদক তৈরির কারখানা গড়ে তোলার খবর রয়েছে। বস্তুত, চোরাচালান প্রতিরোধের বদলে চোরাকারবারিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে অনেক বিএসএফ সদস্যের বিরুদ্ধে। সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে, সে তুলনায় বিএসএফ’র জব্দ করা মাদকের পরিমাণ খুবই কম। এটাই যখন বাস্তবতা, তখন বিএসএফ সদস্যরা চোরাচালান প্রতিরোধের অজুহাতে হত্যা করছে বাংলাদেশি নাগরিক। ভারত সরকারকে তার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এই অপতৎপরতা বন্ধে আন্তরিক উদ্যোগ নিতে হবে। নতুবা এই হত্যাকান্ড বন্ধ করা যাবে না।