সীমান্তে ফেনসিডিল কারখানা

সীমান্তে ফেনসিডিল কারখানা

গত পাঁচ বছরে মাদক কারবারি ও ফেনসিডিল কারখানার তালিকা নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুই দেশের মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে যৌথ অভিযানেরও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এর ইতিবাচক ফল দেখা যায়নি। গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, বাংলাদেশ ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় কমপক্ষে ৭২টি ফেনসিডিল তৈরির কারখানা এখনো চালু আছে। চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্যেও সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মাদক কারবারিরা। ৬১২টি পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে মাদকের চালান। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে সর্বমহলে গভীর উদ্বেগের পটভূমিতে গত বছরের ৪মে থেকে দেশব্যাপী চলছে সাঁড়াশি অভিযান। দেশের মানবিক অবক্ষয়ের মাত্রাটা অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। দেশের তরুণ সমাজের একটা অংশ বিপথগামী।

বিত্তহীন, মধ্যবিত্ত বা উচ্চ বিত্ত সবার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে মাদক। কীভাবে মাদক নিত্যপণ্যের মতো আমাদের অলিগলিতে ঢুকে পড়ে, তা সবাই না জানলেও কিছু লোক জানে। মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ে কেউ কেউ। তারা আবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়ে। আসল নাটের গুরু কখনোই ধরা পড়ে না। তারা ধরা পড়লে এদের মুখোশ যেমন উন্মোচিত হতো, তেমনি মাদক ব্যবসায়ও ভাটা পড়ত। এখনো মাদককে রোধ করা না গেলে এ বিষ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়বে। সীমান্ত থেকে সকল ফেনসিডিল কারখানা ধ্বংস করতে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। জাতি বিনাশকারী মাদক উৎপাদনকে বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রশ্রয় দেবে না- এমনটি বিশ্বাস করতে ভারতকে তার কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণ দিতে হবে। সীমান্ত পেরিয়ে মাদকের চালান কীভাবে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে- সেটাও সরকারকে বুঝতে হবে।