সিলেটে গিয়ে মন খারাপ রাষ্ট্রপতির

সিলেটে গিয়ে মন খারাপ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, চীনের কমলা দেশে আনতে আড়াই মাস সময় লাগে। এসবে ফরমালিন দেয়া থাকে। শুধু ফলমূল না, শাকসবজি সব কিছুতেই ফরমালিন। এসব খাওয়ার ফলে দেশে ক্যানসার রোগী বাড়ছে। এদের প্রায় সবাই মারা যায়। ২০/৩০ বছর আগেও এত ক্যানসার রোগীর কথা শুনতাম না। একটা মানুষ মার্ডারের ফলে ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ড হয়। যারা খাদ্যে ফরমালিন-কেমিক্যাল দিচ্ছে ব্যবসা করার জন্য তারা গণহত্যা করছে। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার এবং সরকারেরও ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
সিলেটের রাস্তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকার সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, হজরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর পবিত্র ভূমির এইটুকু রাস্তা ঘুরে মন খারাপ হয়ে গেছে। ধারণা করেছিলাম আরেকটু পরিষ্কার থাকবে। পলিথিন, কলার বাকল, কাগজ যেখানে-সেখানে পড়েছিল। পরিষ্কারের মানসিকতা হারিয়ে গেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য জনগণকে মোটিভেট করতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ নেয়া দরকার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এ সমবার্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বা পাঁচ বছর মেয়াদি বাজারবান্ধব কোনো শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হতে না হতে বাজার বদলে যায়, তাতে প্রবেশের শর্তগুলোও পাল্টে যায়। বাজারে শর্তগুলো সম্পর্কে আমাদের আগে থেকে কোনো ধারণা থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীদের সেইভাবে তৈরি করতে পারি না।
 

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার ন্যায়নিষ্ঠতা ও মানবিকতা এই দুটি উদ্দেশ্যকে ক্রমাগত আমরা অবহেলা করে আসছি। শিক্ষার্থীদের সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছি। ফলে, আমাদের সমাজ থেকে সুনীতি চলে যাচ্ছে। সমাজের সংঘটিত বিভিন্ন অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছি। সমাজ যত বস্তুগত উন্নতির দিকে যাচ্ছে, তত তার নীতিনিষ্ঠতায় ভাঙন ধরছে।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও সমাবর্তন বক্তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া সমাপনী বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম।

সমাবর্তনে স্নাতকে চার হাজার ৬১৭ জন, স্নাতকোত্তরে এক হাজার ১২৭ জন, পিএইচডি দুইজন, এমবিবিএস ৮৭৮ জন, এমএস ও এমডি ডিগ্রিধারী ছয়জন এবং নার্সিংয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও স্নাতকে সর্বোচ্চ ফলাফলধারী ১২ শিক্ষার্থী ও স্নাতকোত্তরে আট শিক্ষার্থীর হাতে ‘রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক’ তুলে দেন তিনি।