সিরাজগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম : পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য গ্রাম : পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ অফিস : সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে দুই গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে একটি গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। অপরদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় মামলা হওয়ায় পর পুলিশ আসামি ধরার নামে বাড়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও মারধর করেছে। জানা গেছে, মুঠোফোনে একটি মেয়ের কাছে ভুলবসত ফোন করা নিয়ে ঈদের আগে গত শনিবার বাড়াকান্দি ও পার্শ্ববর্তী ধলেশ্বর গ্রামের লোকজনের মধ্যে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের পর গত রোববার থেকে দুই গ্রামের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় ধলেশ্বর গ্রামের সারোয়ার হোসেন, আবু মুছা ও কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক আশফাকুর রহমান বাদী হয়ে ৩৪ জন নামীয় ও প্রায় ২৫০ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। ড়াকান্দি গ্রামের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিসট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। বাড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একদল পুলিশ বাড়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালায়। তারা আসামী ধরার নামে গ্রামের মধ্যে ব্যাপক তান্ডবলীলা চালায়। বিভিন্ন বাড়িঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও মারধর করে। পুলিশ রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদের বাড়ী ও আমার বাড়িসহ ৭টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। বর্তমানে গ্রামের সকল পুরুষ মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

 ওই গ্রামের শাহনাজ বেগম ও আসমা বেগম জানান, রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তারা বাড়ীর গেটে লাঠির আঘাত করে গেট ভেঙে বাড়িতে ঢোকে। তারা কথা বার্তার এক পর্যায়ে বাড়ির আসবাবপত্রসহ রান্না করার চুলা ভেঙে ফেলে চলে যায়। বর্তমানে কোন পুরুষ মানুষ পুলিশের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছে না।এ বিষয়ে উপপরিদর্শক আশফাকুর রহমান বলেন, কারো বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়নি। দুই পক্ষের গোন্ডগোলের সময় হয়ত তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর হতে পারে। কোন নিরাপরাধ ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় কাউকে আনা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোড় নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।কামারখন্দ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার হোসেন জানান, দুই গ্রামবাসীদের সৃষ্ট ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তারাও গ্রামবাসীদের হাতে মারধরের শিকার হয়। মামলার আসামি হিসেবে পুলিশ সম্পৃক্তদের আটকের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। কোন প্রকার ভাঙচুর বা মারধর করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।