সিন্ডিকেট ভেঙে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে

সিন্ডিকেট ভেঙে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে

সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই, বাজারে সবার মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা কমিশনের আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সিন্ডিকেট করে পণ্যে অবৈধ মজুত গড়ে তুলে কৃত্রিম উপায়ে মূল্য বৃদ্ধি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। পণ্যের সঠিক মূল্য ও বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে।

শনিবার (০৯ মার্চ) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিযোগিতা কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শ্রম ও উন্নয়ন অর্থনীতিবীদ ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গুটি কয়েক মানুষের লাভের জন্য দেশ স্বাধীন করা হয়নি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন করে গেছেন, আজ তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দিনরাত কাজ করছেন। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

টিপু মুনশি বলেন, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে পবিত্র রমজান মাসের আগে পণ্যের অবৈধ মজুত ও দাম বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না। ব্যবসায় প্রতিযোগিতা না থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। প্রতিযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানুষ উন্নত মানের পণ্য প্রকৃত মূল্যে ক্রয় করার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মধ্যে ৪২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেড়িয়ে উন্নয়নশীলে পরিণত হতে শুরু করেছে। আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রসংশা করা হচ্ছে।