সিটি নির্বাচন : পুলিশের চাওয়া-পাওয়ায় আকাশ-পাতাল ফারাক

সিটি নির্বাচন : পুলিশের চাওয়া-পাওয়ায় আকাশ-পাতাল ফারাক

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)।

দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা যানবাহনের জ্বালানি (পেট্রল, তেল ও লুব্রিকেন্ট) খরচ চেয়েছিল ১০ কোটি ২৫ লাখ ১ হাজার ৬৫০ টাকা। তাদের চাহিদার বিপরীতে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ দিয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৯০০ টাকা। অর্থাৎ, যা বরাদ্দ পেয়েছে তার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ টাকা বেশি চেয়েছিল পুলিশ।

এই দুই সিটি নির্বাচনে পুলিশ কিছু ভাড়া করা গাড়িও ব্যবহার করবে। এ জন্য হায়ারিং চার্জ (ভাড়া করা গাড়ি) বাবদ পুলিশ চেয়েছিল ২ কোটি ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাদের এই চাহিদার বিপরীতে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ দিয়েছে ৫৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এ খাতে প্রায় ৪ গুণ বেশি টাকা চেয়েছিল পুলিশ।

ইসি ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৩৫ টাকা ইসির কাছে চেয়েছিল পুলিশ। এই চাহিদার বিপরীতে যাচাই-বাছাই শেষে ৮ কোটি ১ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে ইসি। অর্থাৎ, বরাদ্দের চেয়ে ৪ গুণ বেশি টাকা চেয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশ।

এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে পুলিশ দৈনিক ভাতা চেয়েছিল ৪ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার ৫২০ টাকা, পেয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা; পেট্রল, তেল ও লুব্রিকেন্ট খরচ চেয়েছিল ৫ কোটি ৪১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯০ টাকা, পেয়েছে ৬১ লাখ ২১ হাজার ৯০০ টাকা; হায়ারিং চার্জ (ভাড়া করা যানবাহন) চেয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৫ টাকা, পেয়েছে ২৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা; অন্যান্য মনিহারি (অন্যান্য ব্যয়) চেয়েছিল ৯৭ লাখ ৮২ হাজার ৬৮০ টাকা, পেয়েছে ২০ লাখ টাকা এবং আপ্যায়ন ব্যয় চেয়েছিল ২ কোটি ৬ লাখ ১১ হাজার ৮০ টাকা, পেয়েছে ৩১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫০ টাকা।

উত্তর সিটিতে পুলিশের মোট ১৩ কোটি ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭১ টাকা চাহিদার বিপরীতে মোট ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫০ টাকা বরাদ্দ দিল ইসি।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে পুলিশ দৈনিক ভাতা চেয়েছিল ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, পেয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা; পেট্রোল, ওয়েল ও লুব্রিকেন্টের জন্য চেয়েছিল ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬০ টাকার, পেয়েছে ৫৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা; হায়ারিং চার্জ (ভাড়া করা যানবাহন) চেয়েছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৫ হাজার ১২৫ টাকা, পেয়েছে ৩০ লাখ টাকা; অন্যান্য মনিহারি (অন্যান্য ব্যয়) চেয়েছিল ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ১৬০ টাকা, পেয়েছে ২০ লাখ টাকা এবং আপ্যায়ন ব্যয় চেয়েছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৭৪ টাকা, পেয়েছে ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
 
দক্ষিণ সিটিতে পুলিশের মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৪ টাকা চাহিদার বিপরীতে মোট ৪ কোটি ৫ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ইসি।

ঢাকার এই দুই সিটিতে ২ হাজার ৪৬৮টি ভোটকেন্দ্রের আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের ৫ দিনের অঙ্গীভূতকরণ বাবদ ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৯ কোটি ৮ লাখ ২২ হাজার ৪০০ টাকা। এর মধ্যে ৫২৫ টাকা করে ৫ দিনে দৈনিক ভাতা ৭ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার, যাতায়াত ২৯ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা, শুকনা খাবার ৭৪ লাখ ৪ হাজার টাকা, ভাড়া করা যানবাহন ব্যবহারে ৫৯ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দুই সিটিতে ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনকালীন প্রতিদিন আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম তদারককারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দৈনিক ভাতা ও জ্বালানী/মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৩ টাকা। এর মধ্যে দৈনিক ভাতা (সর্বোচ্চ ১৮২০ টাকা থেকে সর্বনিম্ন ৪৫৫ টাকা করে ধরে) ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৩ টাকা এবং পেট্রোল, তেল ও লুব্রিকেন্ট খরচ দেড় লাখ টাকা।

দুই সিটিতে ডিএমপিতে পুলিশের সাথে মোতায়েন করা ৫১৫ জন ব্যাটালিয়ন আনসারের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৩৭৫ টাকা। তাদের দৈনিক ভাতা ৪৫৫ টাকা এবং দৈনিক শুকনা খাবারের জন্য ২৫০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রেঞ্জ, জেলা ও উপজেলা পর‌্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ব্যয় নির্বাহের জন্য দৈনিক ভাতা ও জ্বালানী খরচ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। দৈনিক ভাতা সর্বনিম্ন ৪৫৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৬৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান  বলেন, ‘তারা যে চাহিদা দিয়েছে, আমরা সেটা যৌক্তিক করেছি। তবে এটা এখনই চূড়ান্ত নয়। পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা হবে। এখন এই বরাদ্দ কিছু কম-বেশি হতে পারে।’