সারিয়াকান্দিতে সেতু না থাকায় পাঁচ গ্রামের ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

সারিয়াকান্দিতে সেতু না থাকায় পাঁচ  গ্রামের ১০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের বাঁশহাটা খালের ওপর দিয়ে ৫টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গ্রামবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে ওই খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেতু নির্মাণ না হওয়ায় খালের পানি ভেঙে যাতায়াত করতে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। বর্ষার সময় নৌকা দিয়ে যাতায়াতে স্কুল-কলেজের  শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়ে। বাঁশহাটা গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ বাচ্চু প্রামাণিক ও স্থানীয়রা জানান, বৃটিশ আমলে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ এই আমতলা-বাঁশহাটা সড়ক হয়ে বগুড়া জেলা শহরে যাতায়াত করতো। ৮০-৯০ লিং রেকর্ডের সড়ক ছিল।  তখন এর নাম ছিল জেলা বোর্ডের সড়ক। গরুর গাড়ী দিয়ে মালামাল বহন করা হতো। ১৯৮৮ সালের বন্যার সময় ওই গ্রামের পাশ দিয়ে খালের সৃষ্টি হয় এবং ওইস্থানে নির্মিত বাঁশহাটা গ্রামের ফকিরের বাড়ির নিকট একটি কালভার্ট  বিধস্ত হয়। এরপর থেকে ওই সড়কে  নতুন কোন সেতু নির্মাণ করা হয়নি ।
 
বাঁশহাটা গ্রামের লাল মিয়া মন্ডলের স্ত্রী কাজলি বেগম বলেন, গেল বন্যার সময় আমার মেয়ে তাসলিমা গর্ভবতী। হঠাৎ প্রসব বেদনা উঠে। হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বহু কষ্টে একটি ভ্যানগাড়ী সংগ্রহ করি। কিন্তু বাড়ীর সামনে খাল থাকায় গাড়ী বাড়ি পর্যন্ত আসেনি। পরে মেয়েকে  কাঁধে করে খাল পার হয়ে বগুড়া শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ব্র্যাক কর্মী হেলেনা খাতুন বলেন, আমি এইগ্রামে গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির ক্লাস নেই। সেতু না থাকায় অনেক পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। বাঁশহাটা গ্রামের কৃষক ইয়াছিন আলী, আলাল মন্ডল, লাল মিয়া বলেন, প্রতি বছর বাঙালি ও যমুনা নদীর বন্যায় উক্ত খালে পানি জমে। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। বহুদিন থেকে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রুবেল উদ্দীন বলেন, আমার ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তাগুলোয় বেশ কয়েকটি সেতু নির্মাণের আবেদন পিআইও অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে বাঁশহাটা ফকিরের বাড়ীর নিকট জরুরী ভিত্তিতে সেতু নির্মাণ খুবই প্রয়োজন।