সামাজিক অস্থিরতা উদ্বেগজনক

সামাজিক অস্থিরতা উদ্বেগজনক

বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়িয়ে চলছে। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সাফল্যকে দৃষ্টিকাড়া বলে অভিহিত করা হলেও প্রদীপের নিচে বিরাজ করছে ঘোরতর অন্ধকার। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধীরা। গত শুক্র ও বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল শহর ও নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনায় পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিএনজি স্টেশনের পাশের জঙ্গলে শুক্রবার রাতে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রী (২৫) পালাক্রমে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে বড়াইগ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুই সন্তানের জননীকে গণধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলার দায়ের করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়। কিন্তু সামাজিক অপরাধের ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকলে মানুষের মনে এক ধরনের ভীতি সঞ্চার হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব, সে ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে পুলিশ। জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে তারা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই ভূমিকা এক শ্রেণির অসাধু পুলিশ সদস্যের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। অভিযোগ রয়েছে, অজ্ঞাত কারণে ধর্ষিতাকে সহযোগিতার বদলে তারা নানাভাবে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে থাকে। যার উদাহরণ ফেনীর সোনাগাজী থানার বিতর্কিত ওসি। সমালোচনার মুখে সরকার তাকে প্রত্যাহার করলেও পুড়িয়ে মারা মাদ্রাসা ছাত্রী রাফির বিপক্ষে অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ধিক্কার ও নিন্দাতে সোচ্চার মানুষ। এমন পুলিশের বিরুদ্ধে থাকা নানান অভিযোগ কঠোরভাবে মোকাবিলা না করলে ধর্ষণ কেন, সমাজে সব ধরনের অপরাধই ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তার আগেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।