সাব্বিরকে ৬ মাস নিষিদ্ধের  সুপারিশ, ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অর্থদন্ড তামিম ইকবালেরও

সাব্বিরকে ৬ মাস নিষিদ্ধের  সুপারিশ, ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অর্থদন্ড তামিম ইকবালেরও

স্পোর্টস রিপোর্টার : জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলার সময়ে এক দর্শককে পিটানোয় বড় শাস্তির সামনে সাব্বির রহমান। বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি তাকে কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এছাড়া ২০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ৬ মাস ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে, বিপিএলে উইকেট ও আউটফিল্ডের সমালোচনা করায় তামিম ইকবালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার সুপারিশ করেছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে প্রথম শ্রেণির ম্যাচের দ্বিতীয় দিন এক তরুণ দর্শককে পিটানোর অভিযোগ উঠে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট পাওয়ার পর শুনানি শেষে ডানহাতি ব্যাটসম্যানের শাস্তির সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা কমিটি।

বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান সোমবার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাব্বিরকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করারও সুপারিশ এসেছে।

“সাব্বিরের বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের শৃঙ্খলা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুনানি হয়েছে। সবকিছই শেষ। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টও পেয়েছি। তার বিষয়ে প্রস্তাব যেটি এসেছে, সেটি হচ্ছে আমাদের যে কেন্দ্রীয় চু্ক্িত আছে, সেটি থেকে সে বাদ পড়ছে। সে আর চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার থাকছে না।”

“সঙ্গে ২০ লাখ টাকা জরিমানা। পাশাপাশি ৬ মাস ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।” ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রাথমিক দলে আছেন সাব্বির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে কোনো বাধা নেই তার। 

“সিদ্ধান্ত যে এখনই হয়ে গেছে, তা নয়। প্রস্তাব এসেছে শৃঙ্খলা কমিটি থেকে।” “সিদ্ধান্ত যে এখনই হয়ে গেছে, তা নয়। প্রস্তাব এসেছে শৃঙ্খলা কমিটি থেকে। সুপারিশগুলো এসেছে। এগুলো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং আরও বাড়তে পারে।”

শৃঙ্খলা জনিত কারণে আগেও শাস্তি পেয়েছেন বিপিএলের অন্যতম আইকন ক্রিকেটার সাব্বির। ২০১৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় বিপিএলের পুরো পারিশ্রমিকের ৩০ ভাগ জরিমানা করা হয়েছিল। সাব্বিরের পারিশ্রমিক ছিল ৪০ লাখ টাকা। নাজমুল হাসান জানান, এবারই শেষ সুযোগ পাচ্ছেন সাব্বির, ভবিষ্যতে হতে পারেন নিষিদ্ধ।

“শৃঙ্খলা কমিটি বলেছে যে, এবারই শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপরও করলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য নিষিদ্ধ করার ভাবনাও আছে।” বিপিএলের গত আসরে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়েছিল সাব্বিরকে। এবারের টুর্নামেন্টে আম্পায়ারকে কটু কথা বলায় ম্যাচ ফির ৩০ শতাংশ জরিমানা হয় তার।

গত বছর আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি সিরিজে শাস্তি পান সাব্বির। আম্পায়ারের সঙ্গে অসদাচরণ করায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩০ শতাংশ জরিমানা হয় তার। সঙ্গে পান দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা দিতে হয় তাকে।

তামিমকে ৫ লাখ টাকা জরিমানার সুপারিশ
বিপিএলে উইকেট ও আউটফিল্ডের সমালোচনা করায় তামিম ইকবালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার সুপারিশ করেছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি। পাশাপাশি সতর্ক করেও দেওয়া হবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সহ-অধিনায়ককে।

সোমবার বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান নিজের কর্মস্থল বেক্সিমকো অফিসে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই সুপারিশ অনুযায়ীই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত।
গত ২ ডিসেম্বর বিপিএলে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী পর্বে তামিম উইকেটকে বলেছিলেন ‘হরিবল’। পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টির জন্য এই উইকেট ‘জঘন্য’। পাশাপাশি শের-ই-বাংলার আউটফিল্ড ও কিউরেটরের সমালোচনাও করেছিলেন তামিম।

তামিমের মন্তব্যে নাখোশ বিসিবি তাকে শুনানিতে ডাকে। গত ১২ ডিসেম্বর হয় এই শুনানি। সেটির প্রেক্ষিতে তার শাস্তির সুপারিশ করেছে বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি। বোর্ড প্রধানের কথায় ফুটে উঠল, তামিমের সমালোচনার ধরন ক্ষুব্ধ করেছে বিসিবিকে।

“ওকে শক্ত আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, মাশরাফি, মোসাদ্দেক একই কথা বলেছে উইকেট নিয়ে। বিদেশি ক্রিকেটাররাও বলেছে। কিন্তু তামিমের ব্যাপারটি ছিল পুরো ভিন্ন। সবকিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে পারছি না, কারণ সেটির প্রভাব বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর আসতে পারে।”

“তবে ওর কথাবার্তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ছিল বিপজ্জনক। এটা আমাদের ক্রিকেটের প্রচুর ক্ষতি করতে পারে বা পারত। এজন্য আমরা মনে করেছি, সহ-অধিনায়ক হিসেবে কথাবার্তা বলায় ওকে আরও অনেক সতর্ক হতে হবে।” 

উইকেট নিয়ে আলোচনা হলেও বিসিবি প্রধানের মূল আপত্তি তামিম আউটফিল্ড নিয়ে কথা বলায়। “একটা পিচ নিয়ে ক্রিকেটাররা বলতেই পারে যে টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ নয়। কিন্তু আপনি আউটফিল্ড নিয়ে বলবেন কেন? কিউরেটর নিয়ে বলবেন কেন?”
“আমাদের আউটফিল্ড এর মধ্যেই দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়ে বসে আছে। চারটা হলে ঢাকা শহরে আর কোনো খেলা হবে না। তো এটা কি ধরনের কথাবার্তা? একজন অধিনায়ক তো এ ধরনের কথা বলতে পারেন না! আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

কদিন আগে বাংলাদেশ টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তামিমকে। নাজমুল হাসান জানালেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনেও প্রভাব আছে তামিমের মন্তব্যের।
“অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক হলে বা যে সমস্ত ক্রিকেটারের মিডিয়ার কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তাদেরকে কথাবার্তা চিন্তা ভাবনা করে বলতে হবে। এটার জন্য নেতৃত্বে বদল হয়েছে, তা নয়। তবে এটিও কারণগুলোর মধ্যে একটি।” 

তামিমের জরিমানার অঙ্ক জানাতে বিসিবির শুরুতে আপত্তি থাকলেও পরে বিসিবি প্রধান বলেন, “তামিমের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ওকে সতর্ক করা।”