সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম

সাফারি পার্কে জেব্রা শাবকের জন্ম

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জেব্রা দম্পতি একটি শাবকের জন্ম দিয়েছে। দুই তিন দিন আগেই শাবকটির জন্ম হলেও গতকাল শুক্রবার কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এ কয়দিন পার্কের জঙ্গলের ঝোঁপঝারের ভিতরে শাবক নিয়ে লুকিয়ে ছিল মা জেব্রা। এ নিয়ে সাফারি পার্কে আফ্রিকান জেব্রা ৪ বার শাবকের জন্ম দিল। বর্তমানে পার্কে বাচ্চাসহ জেব্রা পরিবারে সদস্য সংখ্যা হলো ১৫টি। বনের গভীরে অবস্থান করায় এখনো সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকটির লিঙ্গ নির্ণয় করা যায়নি। সুযোগ বুঝে মায়ের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে  শাবকটি। পার্ক কতৃপক্ষ জানায়, ২০১৩ সালের পর থেকে কয়েক দফায় দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গ থেকে পশুপাখি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে জেব্রা আনা হয় পার্কে। পার্কের অফ্রিকান সাফারি বেষ্টনীতে অবাধে বিচরণ করছে জেব্রাগুলো। এ বেষ্টনীতে আরও বেশ কিছু আফ্রিকান প্রাণি বসবাস করে। শাবকের দুরন্তপনায় মুগ্ধ আফ্রিকান সাফারি অঞ্চলের আসা দর্শনাথী।

ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন খান জানান, জেব্রা হলো ইকুইডি পরিবারের আফ্রিকান ক্ষুরযুক্ত চতুষস্পদ স্তন্যপায়ী প্রাণি। যারা তাদের স্বতন্ত্র সাদা-কালো ডোরার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। পার্কের একই বেষ্টনীতে জেব্রার সঙ্গে অরিক্স, ওয়াইলবিস্ট, জিরাফ, গ্যাজেল কমনইলান্দ বসবাস করে। গভীর অরণ্যে অবাধে বিচরণ করে এ সব প্রাণি।তিনি জানান, জেব্রা শাবক সাত থেকে আট মাস মায়ের দুধ পান করে। জেব্রা বার থেকে তের মাস গর্ভকালীন সময় পার করে। প্রকৃতিতে ২০ বছর বাঁচলেও আবদ্ধ জোন (ক্যাপটিবে) ৪০ বছর পযর্ন্ত বেঁচে থাকে জেব্রা। জেব্রা সাধারণত একটি বাচ্চাই প্রসব করে। সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নিজাম উদ্দীন চৌধুরী জানান, সুস্থ রয়েছে শাবকটি। তবে সপ্তাহ খানেক পরেই একটু একটু করে কচি ঘাস খেতে শুরু করবে। প্রাপ্তবয়স্ক ১৪টি জেব্রার মধ্যে সাতটি ফিমেল (নারী) সাতটি মৈইল (পুরুষ) রয়েছে। ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার আনিসুর রহমান জানান, ঘাস মূলতএদের প্রধান খাদ্য। মা জেব্রার পুষ্টি গুণের কথা চিন্তা করে খাবারে বেশ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি তাদের ছোলা, গাজর, ভুট্টা ও ভূষি দেয়া হচ্ছে নিয়মিত। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে নিয়মিত বাঘ সিংহসহ অনেক প্রাণিই বাচ্চার জন্ম দিচ্ছে। এতে পার্কে আসা দর্শনার্থীরা আলাদা আনন্দ উপভোগ করবে। এ সব উন্মুক্ত প্রাণি দর্শনার্থীরা সুরক্ষিত গাড়িতে করে খুব কাছ থেকে দেখতে পেয়ে রোমাঞ্চিত হয়।