সান্তাহারে আম গাছে মুকুলের সমারোহ

সান্তাহারে আম গাছে  মুকুলের সমারোহ

সান্তাহার (বগুড়া) প্রতিনিধি : এখন ঋতুরাজ বসন্তকাল। এরই মধ্যে বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় আমের গাছে গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে। কৃষিবিদ ও আম চাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুুকূলে থাকলে এবার আমের ভাল ফলন হবে। গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করছেন আম বাগানের মালিক ও আম চাষিরা। আম বলতে এক সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীকেই বোঝাত। এখন অবস্থা ভিন্ন। বগুড়ার পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় সব জাতের আমের উৎপাদন হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর কৃষি জমিতে বাড়ছে আমের আবাদ। তবে আমের রাজার দেশ এখনও চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

দেশজুড়ে যত আম বাগান তার বেশি ভাগ আম বাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বর্তমান যে পরিমাণ আমের মুকুল আসছে তার কিছু নষ্ট হয়ে যায় তার কারণ প্রথমত ঘনকুয়াশা, তারপর শিলাবৃষ্টি বা অতি খরা। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই আম গাছকে টিকতে হয় ফলের জন্য। প্রবাদে ও লোক কথায় আছে “কুয়োয় (কুয়াশা) আমের ক্ষয়, তেঁতুলের কিছু নয়” অর্থাৎ ঘন কুয়াশায় মুকুল ঝরে যায়। তেঁতুলের কিছুই হয় না। তাই মুকুল যতই ঝরুক শেষ পর্যন্ত যতটুকু টিকে থাকে তাতেই ১০/১২টি করে আম ধরে। এই আমের ভারই সইতে পারে না অনেক গাছ।

জানা গেছে, সান্তাহার পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫ হেক্টরের অধিক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। বাগানে আম রুপালি, ফজলি, খিরসা, মোহনা, ল্যাংড়া, রাজভোগ ও গোপাল ভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও ছোট ছোট পরিত্যক্ত এবং বাড়ির আশপাশে জায়গাগুলোতে অনেক গাছ রয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। চলতি ফাল্গুন মাসের প্রথম নাগাদ ভরপুর মুকুল আসবে। উপজেলার উৎপাদিত আম এলাকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান জানান, মুকুল আসার সাথে এবং মুকুল ধরার সময় প্রয়োজনীয় স্প্রে করা গেলে আমের মুকুল সংরক্ষণ এবং পোকার হাত থেকে আমকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি আরো জানান, আম চাষে আগ্রহী কৃষকরা কৃষি বিভাগের কাছে পরামর্শের জন্য এগিয়ে এলে সে ক্ষেত্রে তারা পরামর্শ দিতে পারেন।