সাত মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড বার্সেলোনা

সাত মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড বার্সেলোনা

টানা জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলেও, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার খেলায় নেই নিজেদের সৌন্দর্য্য বা আধিপত্যের ছাপ। কখনো লিওনেল মেসির একক নৈপুণ্য আবার কখনো ভাগ্যের সহায়তায় জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বার্সেলোনাকে।

কিন্তু শনিবার রাতে মেলেনি এ সান্ত্বনার জয়টিও। তুলনামূলক দুর্বল দল লেভান্তের কাছে ১-৩ গোলে হেরেই গিয়েছে আর্নেস্ত ভালভার্দের শিষ্যরা। এমন নয় যে পুরো ম্যাচে বার্সাকে নিয়ে ছেলে খেলা করেছে লেভান্তে। ম্যাচের সব পরিসংখ্যানই মূলত কাতালুনিয়ানদের পক্ষে।

অথচ মাত্র ৭ মিনিটের এক পাগলা ঝড়েই বিধ্বস্ত হয়েছে বার্সেলোনার জাহাজ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ থেকে ৬৮- এই সাত মিনিটের মধ্যেই তিনটি গোল করেছে লেভান্তে। বলা বাহুল্য, পুরো ম্যাচে গোলমুখে শুধুমাত্র এই তিনটি শটই নিতে পেরেছে স্বাগতিক ক্লাবটি। ম্যাচের প্রথমার্ধে বার্সার পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন লিওনেল মেসি।

লেভান্তের মাঠে খেলতে গিয়ে বল দখলের লড়াই কিংবা আক্রমণের ধাঁর- সবখানেই এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। তবু তাদের খেলায় ছিল না সৌন্দর্য্যের ছিটেফোঁটাও। উল্টো লেভান্তের হুটহাট প্রতি আক্রমণগুলোই মনে হচ্ছিল বেশি জোরালো। এরই মাঝে একটি ভুল করে ফেলে লেভান্তে।

বাঁ দিক দিয়ে লেভান্তের ডি-বক্সে ঢুকে ফাউলের শিকার হন বার্সেলোনার ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদো। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। পুরো ম্যাচে এই একবারই শুধু উল্লাস করতে পেরেছে বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেও যে লেভান্তে খুব একটা চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে বার্সার রক্ষণে- এমনটা নয়। বরং হুটহাট হাই প্রেসিং ট্যাকটিকসে বার্সেলোনার মিডফিল্ড ও ডিফেন্সকে বোকা বানায় তারা। যার শুরুটা হয় ৬১ মিনিটে হোসে কাম্পানার গোলের মাধ্যমে।


সমতা ফেরানোর মিনিট দুয়েক পরেই প্রায় ২০ গজ দূর থেকে মিসাইল ছোড়েন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ড বোর্জা মায়োরাল। নিখুঁত লক্ষ্যভেদী এ শটে কিছুই করার ছিল না বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগানের। পরে ৬৮ মিনিটের মাথায় বার্সার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন নেমাঞ্জা রাদজা।

এমন পরাজয়ের পরেও অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান হারায়নি বার্সেলোনা। দিনের অন্যান্য ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ড্র করায় এক নম্বরেই রয়ে গেছে বার্সা। ১১ ম্যাচে ৭ জয় ও ১ ড্রতে তাদের পয়েন্ট ২২। গোলগড়ে পিছিয়ে থাকায় সমান ২২ পয়েন্ট নিয়েও দুই নম্বরে রিয়াল।