সাকিবের মহাকাব্যর উপন্যাস

সাকিবের মহাকাব্যর উপন্যাস

করতোয়া ডেস্ক

একটা গল্প লেখবো সাকিব আল হাসানকে নিয়ে কিন্তু শুরুটা কোথায় থেকে শুরু করবো আর শেষ করবো কোথায় থেকে বুঝে উঠতে পারছি না?কারণ বাংলাদেশের তার অবদান অনেক। এই গল্পের কতো সব মোড়, হাসি-কান্নায় জমে থাকা এক দারুণ রোমাঞ্চ ভরপুর ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ভূখণ্ডকে যিনি আলাদা ভাবে চিনিয়েছেন। হারারে স্পোর্টস গ্রাউন্ড থেকে মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেট কিংবা অ্যাডিলেড থেকে কার্ডিফ ওই একজনেই লণ্ডভণ্ড প্রতিপক্ষ। কখনও ব্যাট হাতে কিংবা বল হাতে জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছেন আমাদের। এ জনপদেরই একজন থেকে হয়েছেন গ্লোবাল ফিগার। বিশ্বজুড়ে যিনি ১০ অনুপাতের  বাই  এর এক টুকরো কাপড়ের ব্র‍্যান্ডিং করে চলেছেন

 আকাশে তো অসংখ্য তারাই দেখি। আজ যে কয়টা

 

 

 

 

 

 

 

 

তারা দেখলাম, পরেরদিন সেগুলো আর দেখি ? কিছু তারা নিভে যায়, কিছু যায় খসে, কিছু যায় ম্লান হয়ে। সন্ধ্যায় উত্তরে জ্বলজ্বল করে এক ধ্রুবতারা। ক্রিকেট আকাশে এই সময়ের ধ্রুবতারা তো বাংলার জান বাংলার প্রান সাকিব আল হাসান। সেই ১৯ বছর বয়সে ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু।

সাকিব দুর্দান্ত মস্তিস্কের একজন ক্রিকেট। ব্যাটসম্যানকে আগেই পড়ে ফেলে ২২ গজে ব্যকরণের বাইরের সব শট খেলে বোলারদের নাস্তানাবুদও করছেন সমান তালে বাংলাদেশের কেউ, একটা জায়গায় এক নম্বর সাকিবের আগে যা দেখাতে পারেনি কেউ। এই কথা চিন্তা করুণ ভালোভাবে, শরীরটা নিশ্চয়ই শিউরে উঠবে। ওয়াহাব রিয়াজের চোখে চোখ রেখে, শাসিয়ে টাইগার গর্জন জানানো, এ কেমন অনুভূতি বলুন তো! কিংবা নিদাহাস ট্রফি সেমিফাইনালের ম্যাচটি ভাবুন

এবার গল্প রোমাঞ্চ যাওয়া যাক, সাকিব কতবার আনন্দে ভাসিয়েছেন পুরো বাংলাদেশকে।  অজি বধের সেই ম্যাচটার কথা মনে পড়ে আপনার? ক্রিকেটের আদি দেশটাকে হারিয়ে দেয়া, একেবারে কুলীন ফরম্যাটটাতে, সাদা পোশাকে। মুশফিক অধিনায়ক থাকেন যেখানে, আদতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন একজন-আপনার উপাখ্যানের নায়ক, সাকিব আল হাসান।দুই ইনিংস মিলিয়ে ফেরান দশ অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানকে। প্রথম ইনিংসে পাঁচটি, দ্বিতীয়টিতেও।

ব্যাট হাতেও করেন ৮৪ রান। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেয়া! আপনারা স্টোকসকে দেয়া সেই সাকিবীয় স্যালুটের কথা মনে পড়ে? অথবা অদ্ভুত ভঙ্গিতে সেই সাকিবীয় উদযাপন?

আচ্ছা, আপনার কি মনে হয় এদেশের ক্রিকেটের বেশির ভাগটাই সাকিবীয়? আপনার কি বিশ্বকাপে সাকিবের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের কথা মনে পড়ে? ৮৬ গড়ে ৬০৬ রান, ২টা শতক, পাঁচটা অর্ধশতক।একই বিশ্বকাপে ১০ উইকেট আর ৬০০ রান আছে কেবল একজন ক্রিকেটেরারেরই? হ্যাঁ, সেটা আপনার দেশের সাকিব আল হাসানেরই।

এটা তো আপনার জানা থাকারই কথা, সাকিবই তিন ফরম্যাটেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হওয়া প্রথম ক্রিকেটার, এখনো একমাত্রও।

আপনি হয়তো সাকিবকে জানতেন আবেগহীন ক্রিকেটার হিসেবে, মনে হতো অজি মন-মাসিকতার। আবার আপনি যখন দেখেন, সাকিব কাঁদছেন সতীর্থকে ঝাঁপটে ধরে অথবা চোখের কোণায় পানি জমেছে কয়েকশ শব্দের একটা স্ট্যাটম্যান্ট পড়তে গিয়ে

এবার দুঃখের অধ্যায়টা শেষ করে নেই মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে তখনো শদুয়েক দর্শক সাকিব’, ‘সাকিবকরছেন। সংবাদ কর্মীদের বেশির ভাগের উপস্থিতিই তখনো ১ নম্বর গেটে, সাকিবের অপেক্ষায়। অথচ সাকিব এলেন অন্য গেট দিয়ে, ভিড় এড়াতে। সবাই দৌড়ে এলো, সাকিবকে দেখতে। তাতে বিস্ময়ের চোখ তো আছেই, অবিশ্বাস্যেরও। বিসিবির সিকিউরিটির জন্য যে চেক, সেখান দিয়ে কতবার ঢুকেছেন সাকিব, তার কী ইয়ত্তা আছে!

সাকিব এলেন এদিনও। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর সাকিবকে এদিন লাগলো বিধ্বস্ত, চেনা পথটা যেন বড্ড অচেনা হয়ে উঠলো তার, সাকিবের মুখটাও। চারপাশের সবার বিষণ্ণ মনের ছাপটাও স্পষ্ট। রাজপুত্র আর নামবেন না মাঠে, একটা বছর। ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব পেয়েও গোপন করায়, তিনবার। তা যেন বিশ্বাস হয় না কারো।

তবুও আপনাকে বিশ্বাস করতে হয়, সবাইকেও। আপনি হয়তো সাকিবের চোখ ছলছল করা ছবিটা দেখে মন খারাপ করেন, আবার একটু এগিয়ে সাংবাদিকের টিপ্পনীতে সাকিবের হাসিটা আপনাকে আশা দেখায়, সাকিবের আগের চেয়ে ভালোভাবেফেরার। আপনি কি তখন প্রশ্ন করেন, কেন? জবাব কী আসে, সাকিব তো এমনই? আসলেই তো।

যে নাম আশা, ভরসা ও জয়ের স্বপ্ন বোনার। যে নামের বিশাল মহীরুহর ছায়ায় অনেককাল নিশ্চিন্ত ছিল এদেশের ক্রিকেট। যে মহাকাব্যের প্রতিটি পাতা আমায় দিয়েছে সীমাহীন ক্রিকেটীয় আনন্দ সে সাকিব আল হাসানকে দৈনিক করতোয়ার পক্ষে থেকে সেলুট ও জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

হ্যাপি বার্থডে সাকিব ভাই..