সাংবাদিক হত্যা থেমে নেই

সাংবাদিক হত্যা থেমে নেই

আবার একজন সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হলেন। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, পাবনায় মঙ্গলবার রাত দশটায় কাজ শেষে ফেরার পথে নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরির আঘাতে সুবর্ণা নদী নামের এক নারী সাংবাদিক নিহত হন। সুবর্ণা পাবনার অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক জাগ্রত বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘আনন্দ টিভির’ পাবনা প্রতিনিধি। তার ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা সুবর্ণার সাবেক স্বামীর পরিবারের সঙ্গে জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। সুবর্ণা হত্যায় সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। পারিবারিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, দাম্পত্য বিরোধের কারণে সুবর্ণা আক্তার নদী নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন।

তার প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছিল দাবি পরিবারের। পাবনার আদালতে মঙ্গলবারই নিজের বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় সাক্ষ্য দেন সুবর্ণা। আর ফেঁসে যাওয়ার সন্দেহে ওই দিন রাতেই খুন হলেন সুবর্ণা। যে কারণেই এই মর্মন্তুদ ঘটনাটি ঘটুক না কেন, এর রহস্য উন্মোচন করে খুনিদের কঠোর আইনের আওতায় এনে ত্বরিত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিক হত্যা বেড়েই চলেছে। এর আগে ঢাকায় নিজ গৃহে সাংবাদিক ফরহাদ দম্পতি ও সাগর-রুনি দম্পতি খুন হয়েছেন। গত দেড়যুগে ৫১ সাংবাদিক খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ আজ পর্যন্ত এসব হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, সাংবাদিক হত্যার বিচার না হওয়ায় ঘাতকরা উৎসাহিত হচ্ছে। এতে বিপন্ন হয়ে পড়ছে সাংবাদিকদের জীবন। ফলে শুধু নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরাই নন, এ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি মাত্রই চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থার অবসান অপরিহার্য।  সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বের বিষয়টি আমরা আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।