সরিষাতেই যে ভূত

সরিষাতেই যে ভূত

হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় বড় চালান ধরা পড়েছে বেশ কিছু দিন ধরেই। তারপরও কেন অব্যাহতভাবে এ কাজে রুটটি ব্যবহার করা হচ্ছে তার কারণ নির্ণয় করতেই হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক চোরাচালানি দল। জড়িত রয়েছে রাজনীতিবিদ, প্রভাবশালী ব্যক্তি, বিভিন্ন সংস্থার কিছু অসাধু সদস্য, নির্মাণ, শুল্ক ও রাজস্ব বিভাগসহ প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি এবং বেশ কিছু সন্ত্রাসী গ্রুপ। শোনা যায় এই সিন্ডিকেট খুবই প্রভাবশালী ও শক্তিশালি। গত ৪ জানুয়ারি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবর এ প্রসঙ্গে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বলা হয় পাসপোর্ট ফেলে এই বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে গেছেন শীর্ষ সোনা চোরাচালানি মতিয়ার রহমান ওরফে খলিল।

 গত ২৫ ডিসেম্বর সকালে শ্রীলংকা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি কলম্বো যাচ্ছিলেন। তার বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা আছে। এই মতিয়ার রহমান গত তিন বছরে (২০১৫-১৭ সময়ে) ১৬৫ বার বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ৭৮ বার, আর ভারতে ৬৪ বার। দুবাই কলম্বো, হংকং ও সিঙ্গাপুরেও তিনি কম যাননি। এতবার বিদেশে গেলেও কখনো তাকে কোন জেরার মুখে পড়তে হয়নি বরং অভিবাসন পুলিশ সবসময় তাকে ছাড় দিয়ে গেছে। এবারও পুলিশ সময় মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যান তিনি। পুলিশের সূত্রগুলোই সন্দেহ করছে তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের উচিত যারা সোনা চোরাচালানি চক্রের সাথে জড়িত তাদের নির্মূল করা। তারা যত শক্তিশালিই হোক না কেন তাদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা।