‘সরল বিশ্বাস’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, জানতে হবে: কাদের

‘সরল বিশ্বাস’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, জানতে হবে: কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান সাংবিধানিক পদে থেকে কেন এমন মন্তব্য করলেন, তার কাছ থেকে জানতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তার ওই মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তার প্রতিক্রিয়া জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখি, বিশ্লেষণে দুর্নীতির কোনো আলাদা ব্যাখ্যা নেই। সাংবিধানিক পদে থেকে তিনি কেন এমন মন্তব্য করলেন, তা তার কাছ থেকে জানতে হবে। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরল বিশ্বাস’ বলতে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন, তিনিই ভালো জানেন, তা আমার জানা নেই। তবে দুর্নীতি দুর্নীতিই, এটা অন্যভাবে দেখার উপায় নেই, এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই।

 সাংগঠনিক কাজে সরকার বাধা দিচ্ছে- বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির কোথাও কোনও সভা-সমাবেশে সরকার কিংবা পুলিশ বাধা দেয়নি। সবখানে তারা সভার অনুমতি পেয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছাড়া বিএনপির এখন আর কিছু করার নেই। তারা মিথ্যা বলে বলে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। সরকারের বিরুদ্ধে কল্পিত অভিযোগই এখন বিএনপির সম্বল। দেশ উন্নয়নের নামে দুর্নীতির রোল মডেল হয়ে- বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি উন্নয়নের রোল মডেলের অর্থ কী বুঝবে? দেশের এতো উন্নয়ন তাদের চোখে পড়ে না। তাদের অতীতের দুনীর্তির চিত্রগুলো আয়নায় দেখা দরকার। জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল। সংসদে অনেকগুলো আসন আছে তাদের। রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে যারা সময়োপযোগী রাজনীতি চর্চা করবে। সময়োপযোগী রাজনীতি যারা করে তারা রাজনীতি থেকে হারিয়ে যায় না।

 উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ ও তাদের ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কাদের বলেন, কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা যত কঠিনই হোক না কেন, আমরা প্রথমে কারণ দর্শাতে বলি। তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে কেন আপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না। সহযোগীদের মধ্যে যারা বিদ্রোহে ছিল বা সহায়তা করেছে তাদের সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দেশের বন্যা মোকাবিলায় দল ও সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যাকবলিত এলাকয় প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনা আনুযায়ী সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আজকেও জামালপুর ও গাইবান্ধায় আমাদের প্রতিনিধি গিয়েছে এবং স্থানীয় নেতাদেরও নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। আমাদের টিম বন্যাদুর্গত এলাকায় যাচ্ছে। সরকারও আন্তরিকভাবে  সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।