সরকারের বিদায়ের দিন গণনা শুরু : রিজভী

সরকারের বিদায়ের দিন গণনা শুরু : রিজভী

ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘বিনা ভোটের সরকার’ অ্যাখ্যা দিয়ে তাদের বিদায়ের দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাবার বছর, কলঙ্ক মোচনের বছর। বেগম জিয়ার নেতৃত্বে এই সালেই গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড়বে মানুষের ঘরে ঘরে। তাই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চুল পরিমাণও ছাড় দেবে না বিএনপি।

শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে এটা অনুধাবণ করেই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা হুমকি আর ধমকের পথ অবলম্বন করেছেন। ক্ষমতার মসনদে অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ করে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতার নেশায় উন্মার্গগামী হয়েছেন।

এজন্য ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শেখ হাসিনার অন্ধ স্তাবকে পরিণত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, অতি ক্ষমতা, অতি দম্ভ, অতি দুর্নীতি, অতি নিপীড়ন-নির্যাতন, অতি অস্ত্রের আস্ফালন এবং অতি মিথ্যাচারে আপনারা নিজেরাই অতিকায় ডাইনোসরে পরিণত হয়েছেন। সুতরাং আপনারাই প্রাণিকূল থেকে অতি শীঘ্রই অবলুপ্ত হয়ে যাবেন। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ভাঙ্গা কলসি। আর ভাঙ্গা কলসিই বাজে বেশি। ভয় দেখিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে, জনগণের বিরুদ্ধে বন্দুক ব্যবহার করে ক্ষমতায় থাকার মজাতে জনগণের কথার আওয়াজ আপনাদের কানে ঢোকে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি কলঙ্কিত নির্বাচন করার চেষ্টা করলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এদেশের জনগণই তা প্রতিহত ও প্রতিরোধ করবে। ক্ষমতার সিংহাসন দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে সরকার পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে গত শুক্রবার দেশব্যাপী বিএনপির কালো পতাকা মিছিলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পন্ড করার অপচেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, আমিরুল ইসলাম খান আলিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।