সরকারি খরচে দেয়া হলো ৬০ হাজার প্রি-পেইড মিটার

সরকারি খরচে দেয়া হলো ৬০ হাজার প্রি-পেইড মিটার

গ্যাসের অপচয় রোধে সরকারি খরচে ৬০ হাজার গ্রাহককে দেয়া হয়েছে প্রি-পেইড মিটার। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১০টি জোনে এসব প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। অপচয় বন্ধ হলে এ পদ্ধতিতে প্রতি চুলায় গ্রাহকের সাশ্রয় হবে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর আনা হয় উন্নতমানের ৬০ হাজার মিটার। ‘ন্যাচারাল গ্যাস ইফিসিয়েন্সি প্রজেক্ট’ এর আওতায় ২০১৭ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হয় প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ। চলতি বছরের মার্চ মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসা প্রত্যেক গ্রাহককে একটি ‘কন্ট্যাক্টলেস স্মার্ট কার্ড’ দেওয়া হয়। প্রতি চার হাজার গ্রাহকের জন্য একটি করে মোট ১৫টি রিচার্জ সেন্টার বসানো হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় এসব রিচার্জ সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে।

মোবাইল ফোনে টাকা রিচার্জের মতোই  প্রয়োজনীয় টাকা রিচার্জ করে এ প্রি-পেইড মিটার ব্যবহার করতে পারবেন গ্রাহকরা। পুরো বিষয়ের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে কেজিডিসিএলের গ্রাহক আছেন ৫ লাখ ৯৮ হাজার। সরকারি খরচে ৬০ হাজার গ্রাহক প্রি-পেইড মিটার পেলেও বাকি ৫ লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহককে নিজ খরচে প্রি-পেইড মিটার কিনতে হবে। তবে গ্রাহকরা প্রি-পেইড মিটার কেনার পর বসানোর কাজ বিনামূল্যে করে দেবে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

এ প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২৪৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৫৪ কোটি ১১ লাখ টাকা দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। সরকার থেকে পাওয়া গেছে ৮১ কোটি ৪৫ লাখ এবং কেজিডিসিএল দিয়েছে ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে ৬০ হাজার প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পদ্ধতিতে প্রতিমাসে গ্রাহকের ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কম খরচ হবে। এছাড়া গ্যাস চুরি কমবে, পাশাপাশি গ্রাহকের ভোগান্তিও থাকবে না।

প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থায় গ্যাস বিল বকেয়া রাখার কিংবা অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের কোনো সুযোগ না থাকায় সরকারের আয়ও বাড়বে। নগরের খুলশী, চান্দগাঁও, চকবাজার, আন্দরকিল্লা, লালখান বাজার, ষোলশহর, নাসিরাবাদসহ আরও কয়েকটি এলাকা এ প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আসছে বলে জানান সরোয়ার হোসেন।