১৪ ফেব্রুয়ারী ‘প্রেস দিবস’ হচ্ছে

সরকার গণমাধ্যমের প্রতি বেশি যত্নবান: তথ্যমন্ত্রী

সরকার গণমাধ্যমের প্রতি বেশি যত্নবান: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সমালোচনাকৃত গণমাধ্যম গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটায়। সরকার গণমাধ্যমের বিকাশ চায়। এ সরকার অন্যান্য সরকার থেকে গণমাধ্যমের প্রতি বেশি যত্নবান। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার পোষ্য গণমাধ্যম নয়, উন্নয়নে সক্রিয় ও সমালোচনায় মুখর গণমাধ্যম চায়। পোষ্য গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে কবর দেয়। ইনু বলেন, সাংবাদিকদের জন্য একটি দিবস করার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের জন্য বাংলাদেশ প্রেস দিবস করার বিষয়টি মন্ত্রী পরিষদে উত্থাপন করা হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আপনাদের যদি কোনো পরামর্শ থাকে তাহলে ব্যক্তিগতভাবে অথবা লিখিতভাবে তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন। এই আইন নিয়ে এখনও আলোচনার সুযোগ আছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে আজ (মঙ্গলবার) প্রথম সভা বসবে। নবম ওয়েজবোর্ডের সভায় প্রিন্ট মিডিয়ার পাশাপাশি টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন গণমাধ্যমকে একত্রিত করার বিষয়েও আলোচনা হবে।

এসরকার সাংবাদিকদের অধিকার, কল্যাণ, চাকরি নিরাপত্তা এবং ওয়েজবোর্ড দিয়েছে। ইনু বলেন, আমরা গণতন্ত্রের বিকাশের পক্ষে আছি। আমরা সবল, সক্রিয়, সমালোচনামুখর গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম চাই। এজন্য জঙ্গিবাদের পক্ষ নেওয়া হলুদ সাংবাদিকতাকেও আমরা সমর্থন করতে পারি না। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো আমাকে লিখিত ও ব্যক্তিগতভাবে জানালে আমি তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবো। এই আইনটি এখনও খসড়ার পর্যায়ে আছে। সংশোধন শেষে তা আরও কয়েক মাস পর সংসদে বিল আকারে যাবে। তাই চিন্তার কিছু নেই। মন্ত্রী জানান, অচিরেই ‘গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরির শর্তাবলী’ নামে একটি বিল আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের করা ‘সাংবাদিক-কর্মচারী অ্যাক্ট-১৯৭৪’ এর ধারাবাহিকতা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইনে কাজ করা গণমাধ্যমকর্মী ও কর্মচারীদের অধিকার, চাকরির নিশ্চয়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন তথ্যমন্ত্রী। ইনু বলেন, বাংলাদেশ সেইসব গুটিকয়েক দেশের একটি, যেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশের সংবিধানে সংবাদপত্র এবং সংবাদকর্মীদের জন্য আলাদাভাবে বিষয় অর্ন্তভুক্ত করেছিলেন। সেখানে গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনভাবে, আইনগতভাবে ও সাংবিধানিকভাবে মতামত, সমালোচনা প্রকাশের কথা উল্লেখ ছিলো। এটা ছাড়া গণমাধ্যমের মৃত্যু হয় বলেই মনে করতেন বঙ্গবন্ধু। একইসঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা, নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিতকরণ ও কল্যাণের বিষয়টিও সংবিধানে উল্লেখ ছিলো। ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ। ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। আজ বুধবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে। এবার সভাপতি- সাধারন সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে প্রায় ৮০জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।