সম্ভাবনার নাম বাংলাদেশ

সম্ভাবনার নাম বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে একটি দেশকে চিহ্নিত করা হয় তিন কারণে - কম আয়, মানব সম্পদের উন্নয়ন না হওয়া ও অর্থনীতির ভঙ্গুরতা। এই তিন সূচকের ওপর ভিত্তি করে কারা স্বল্পোন্নত দেশ তা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ। স্বাধীনতার পর যে দেশকে অভিহিত করা হতো তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে সে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বিপুল বিক্রমে। অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বৈশ্বিক নানা ফোরামে তার স্বীকৃতিও মিলছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা সূচকে বাংলাদেশের এই ক্রমোন্নতিকে অবশ্যই স্বাধীনতার সুফল হিসেবে উল্লেখ করতে হবে। স্বাধীনতার আগে আমরা যখন পূর্ব পাকিস্তান ছিলাম তখন পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায়ও আমরা ছিলাম অনেক পিছিয়ে, যেমন অর্থনৈতিকভাবে, তেমনি শিক্ষা ও নানা সূচকে।

স্বাধীনতার পর দেশ পরিণত হয়েছিল এক ধ্বংসস্তুপে। রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও প্রায় কিছুই পাইনি আমরা। সবই গিয়েছিল পাকিস্তানের দখলে। এরপরও আজ বেশির ভাগ সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের ওপরে। শুধু স্বাধীনতাই বাংলাদেশকে এ সুযোগ এনে দিয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন, তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই বাংলাদেশ অচিরেই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তবে সুশাসন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ রাখা যাবে না। স্বস্তিদায়ক অবস্থানে যেতে হলে এ ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতির কোনো বিকল্প নেই। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবার ভূমিকা কাম্য।