সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্প

সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্প

আমাদের প্রয়োজনীয় ওষুধের ৯৮ শতাংশ দেশেই তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য সহ পৃথিবীর ১৬০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ২০১৫ সালে ৮১২ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়। ২০১৬ সালে প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়। যেসব দেশ ওষুধের মানের ব্যাপারে আপোষহীন তারাও বাংলাদেশের ওষুধের ব্যাপারে সšুÍষ্টি প্রকাশ করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোঃ নাসিম সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন খুব কড়া। বাংলাদেশের ওষুধের মান উন্নত বলেই যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ওষুধ রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে চলতি অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ওষুধ রপ্তানি হয়েছে। এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ কোটি ডলার। ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আমাদের ওষুধ শিল্প অনেক খানি এগিয়ে গেছে।

আমাদের নিজেদের দেশে উৎপাদিত ওষুধ দেশের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে। আমাদের নজর রাখতে হবে বিদেশে মান সম্মত ওষুধ রপ্তানি করে সুনাম পাচ্ছি, তেমনি দেশের অভ্যন্তরেও মানসম্মত ওষুধ যেন নিশ্চিত করতে পারি। দেশের বাজারে ওষুধের মান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে। এ ক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। সংশ্লিষ্ট বিভাগের জবাবদিহিতা-দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশিয় বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ রোধ করতে না পারলে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে পড়তে বাধ্য। ওষুধের মতো মানসম্মত পণ্য রপ্তানি বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে সহায়তা করবে। ওষুধ শিল্পের বিকাশ হলে আমাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে। রপ্তানিযোগ্য ওষুধ এতো মানসম্মত হতে পারলে দেশের বাজারে নকল-ভেজাল ওষুধ আসে কীভাবে?