সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে

সম্পদের বৈষম্য বাড়ছে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত জরিপের প্রকাশিত ফলে দেশে যে দারিদ্র্য চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা আমাদের যেমন আশাবাদী করে তোলে, তেমনি সতর্কতার তাগিদও দেয়। অস্বীকার করা যাবে না যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুশাসনের ঘাটতিসহ নানা প্রতিকূলতা সত্বেও দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক বিভিন্ন সূচকে গত দুই তিন দশকে বাংলাদেশ ক্রমাগত এগিয়েছে। দেশের দারিদ্র্য বিমোচনেও ইতিবাচক চিত্র প্রতিফলিত হচ্ছে বিভিন্ন সুচক ও জরিপে। গত বছর পর্যন্ত দেশে দারিদ্র্য হার শতকরা ২৪ দমকি ৩ শতাংশ নেমে এসেছে। আমরা জানি, ২০১০ সালেও এই হার ছিল ৩১ ভাগের বেশি। অথচ বিপরীত দৃশ্য দেখা যায় দেশের বাইরে। বিশ্বজুড়ে সম্পদ তৈরী হচ্ছে, এর আকার বাড়ছে। কিন্তু সেই সাথে সমাজে বৈষম্যও দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি সম্পদ মাত্র আটজনের হাতে রয়েছে।

শীর্ষ ধনী বিল গেটস থেকে শুরু করে মাইকেল ব্লুমবার্গের কাছে বর্তমানে ৩৬০ কোটি জনসংখ্যার চেয়েও বেশি সম্পদ রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য যে অনুকরণীয় তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে প্রধান খাদ্য শস্য ধান উৎপাদনে আমরা মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেলেও দারিদ্র্য বিমোচনের সহায়ক অন্যান্য শক্তি নিশ্চিত না হওয়ায় কিছুটা নেতিবাচক অবস্থা থেকে যাবে বলে ধরে নেয়া যায়। এ অবস্থা নিরসনে প্রয়োজন শিক্ষা, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাসহ উৎপাদন ও বন্টন ব্যবস্থার উন্নয়ন। দারিদ্র্য মানচিত্রের বাস্তবতা দেখে সরকার আগামী উন্নয়ন পদক্ষেপ নিবে বলে আমরা প্রত্যাশী। বাংলাদেশে সন্দেহজনক সম্পদে ধনী হওয়া সহজ। এর প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।