সবার অংশগ্রহণে হোক নির্বাচন

সবার অংশগ্রহণে হোক নির্বাচন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে গত রোববার। বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের হলফনামা ও অন্যান্য যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ও অবৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের মতে, দুই বছরের বেশি দন্ড, ঋণ খেলাপি ও ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের কারণে সারাদেশে ৩০৬৫ প্রার্থীর মধ্যে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। কমিশন জানিয়েছে, যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আপিলের সুযোগ পাবেন। ইসির রায়ে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে প্রার্থীদের। বিএনপির অভিযোগ মাষ্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে বেছে বেছে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগে থেকেই যাচাই-বাছাই ও জরিপ চালিয়ে প্রার্থী ঠিক করার কারণে মহাজোটের প্রার্থীরা টিকে গেছেন।

তবে মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে ইতোমধ্যে ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রোববার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকের পর জোটের মুখপাত্র এলডিপির সভাপতি কর্ণেল (অব) অলি আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, যাচাই-বাছাইয়ে এক তরফাভাবে ২০ দলীয় জোটকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াসহ জোটের ৮০ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটা করে সরকারি দলের জয়লাভকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনকে সব সন্দেহ ও বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা উচিত। কোন পক্ষই যেন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে-সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদের আপিলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানে ভুল-ত্রুটিগুলো আরো স্পষ্টভাবে নজরে আসে। কেউ যদি অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মনে করেন, তবে তিনি আপিলে তার প্রতিকার পাবেন এটা বলা যায় নিশ্চিতরূপে। তাই আমরা আশা করি সরকার, সরকারি দল এবং বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও জোট একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।