সব জিনিসের দাম চড়া

সব জিনিসের দাম চড়া

স্বস্তি মিলছে না বাজারে। দেশে খাদ্যাভাব না থাকলেও অতি মূল্য সাধারণ মানুষের জন্য উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাছ, মাংস, মুরগি, সব কিছুরই দাম চড়া। ৩০ টাকার পেঁয়াজ এবার প্রায় তিনশ ছুঁই ছুঁই গেছে। এখনো দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি ২০০-২২০ টাকা। ৬০ টাকা কেজির নিচে সবজি পাওয়াই দুস্কর চাল, ডাল, আদা, রসুন, আলু, বেগুন, কপি, টমেটো সব কিছুর দামই উর্ধ্বমুখী। বাজারে পণ্যের যে অগ্নিমূল্য তা দেশের লাখ লাখ মানুষের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে একটা জিনিসই অস্বাভাবিক। সেখানেই নেই কোনো স্থিতিশীলতা। কোনো কারণ ছাড়াই তরতর করে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য। পাইকারি বাজারের সাথে নেই খুচরা মূল্যের সামঞ্জস্য। বাজার থেকে সাধারণ ক্রেতা যে দামে পণ্য কিনছেন, উৎপাদক তা আশাও করতে পারেন না।

 মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে কৃষক পণ্য উৎপাদন করছেন, তিনি ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর পকেট ঠিকই ভরে যাচ্ছে। আর ফাঁকা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতার পকেট। মূলত অসৎ ও অতি মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। যারা একেক সময় একেক অজুহাত দাঁড় করায়। নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের অজুহাতের শেষ নেই। এ ধরনের অসুস্থ ও অতি লোভী মানসিকতা পরিত্যাগ করতে হবে। বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে ক্রেতা-সাধারণের দুর্ভোগের সীমা নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তো কোনো কিছুরই ঘাটতি নেই। প্রচুর সরবরাহ, তারপরও বাজার নৈরাজ্য চলে কীভাবে? কারা বাজার নিয়ন্ত্রক। বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি দেখেও না দেখার ভান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ-এমন অনেক অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। অদৃশ্য বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি যত দিন ভাঙ্গা না যাবে ততদিন নিত্য পণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে। নিজেদের স্বার্থেই এ সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বাধিক যতœবান হবেন এমনটিই কাম্য।