সপ্তাহ শেষে তাপমাত্রা বাড়ছে ৮ ডিগ্রি!

সপ্তাহ শেষে তাপমাত্রা বাড়ছে ৮ ডিগ্রি!

প্রকৃতির বিরুপ রূপ চলছে বছরজুড়ে। বর্ষায় অতিরিক্ত বর্ষণ, শীতেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কেঁপেছে প্রকৃতি-প্রাণিকূল। ষড়ঋতুর বছর শেষে উঠা-নামা করছে তাপমাত্রা। এতে বিরাজ করছে অস্বস্তি। চৈত্রের খর রোদে এখন উত্তাপ ছড়াচ্ছে প্রকৃতি। আবহাওয়ার এই বিরুপ আচরণের মধ্যে গ্রীষ্মকালের আগেই বসন্তের শেষে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস! আগামী তিন মাসে ২৩ মার্চ সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা উঠবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকার এই তাপমাত্রা উঠা-নামা করছে প্রতিনিয়ত। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ঢাকায় মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো গত ৪ মার্চ। একই দিনে যশোরে উঠেছিলো সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মার্চ মাস থেকে শুরু হয় গ্রীস্মকালের আগাম-মৌসুম। এসময় থেকে সূর্য কিরণ বাড়ছে অর্থাৎ দিন বড় হচ্ছে। দিন বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য কিরণ দীর্ঘ সময় পৃথিবীর ওপর পড়ে। এতে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এ অবস্থায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করলেও প্রকৃতির বিরুপ রূপটিও জানাচ্ছেন তারা। আজ রোববার ৩৪ ডিগ্রি, পরদিন সোমবার থেকে বুধবার ৩৬ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকবে। এরপর আগামী শুক্রবার (২৩ মার্চ) সেই তাপমাত্রা বেড়ে হবে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরবর্তীতে নেমে যাবে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগামী তিন মাসে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই সর্বোচ্চ হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়ার বিশেষায়িত একটি ওয়েবপোর্টাল। এদিকে, তাপমাত্রা হেরফেরের মধ্যে আকাশ কখনও মেঘলা এবয় কোথাও কোথাও বৃষ্ট এবং বজ্রসহ বৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। এতে করে মানুষ এবং প্রাণিকূলের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক অবস্থান করছে লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মার্চ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের (৩৪-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) চেয়ে এক থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকার সম্ভাবনা আছে। একই সঙ্গে মাসের শেষের দিকে দেশের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে একটি মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরণের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই মাসে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুই দিন ও দেশের অন্যত্র ৪ থেকে ৫ দিন শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্র-ঝড় হতে পারে। আর এপ্রিল মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপ প্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং অন্যত্র ১-২টি মৃদু (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) মাঝারি (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিক/স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১-২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলেও জানা যায়। এ মাসে দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ২-৩ দিন বজ্রসহ মাঝারি/ তীব্র কালবৈশাখী/বজ্র-ঝড় ও দেশের অন্যত্র ৪-৫ দিন হাল্কা/মাঝারি কালবৈশাখী/বজ্র-ঝড় হতে পারে।