সচিব-কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট ‘উৎকোচ’ দেওয়া হচ্ছে: রিজভী

সচিব-কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট ‘উৎকোচ’ দেওয়া হচ্ছে: রিজভী

সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করতে তাদেরকে উৎকোচ হিসেবে ফ্ল্যাট দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকজন সচিব ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নামোল্লেখ করে বলেন, “বুঝতে পারছেন এই ব্যক্তিবর্গ কারা? যাদেরকে উৎকোচ দিলে পরে নির্বাচনে কাজ করানো যাবে ঠিক তাদেরকে এই ফ্ল্যাটের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এটা নির্বাচন জালিয়াতি করার জন্য উৎকোচ দেওয়া হয়েছে।”

রিজভী বলেন, “একটা পাতানো নির্বাচন করার জন্য সরকারের কত আয়োজন। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা (সরকার) আয়ত্ত করে লুটপাটের মাধ্যমে কিনে নিতে চাচ্ছেন যাদেরকে দিয়ে ভোট ডাকাতি করবে, ভোট জালিয়াতি করবেন তাদেরকে।

“অত্যন্ত বেআইনিভাবে নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে খুব তাড়াহুড়া করে ঢাকার ধানমণ্ডি ও মোহাম্মদপুরস্থ বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় নির্মাণাধীন আবাসিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিছু সচিব, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরকে। এসব ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষও হয়নি।”

সেংবাদ সম্মেলনে কারাবন্দি গাজীপুর-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ফজলুল হক মিলনের স্ত্রী শম্পা হকও বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, “এলাকায় নেতাকর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা দা-ছুরি-লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করছে, প্রচারণা করতে দিচ্ছি না। এভাবে যদি চলতে থাকে আমরা কী করব? কীভাবে প্রচারণা চালাব আপনারাই বলুন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে না।”

অবিলম্বে মিলনের মুক্তির দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির বিরুদ্ধে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে তাদের প্রত্যাহার দাবি করেন শম্পা।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রুমানা মাহমুদের নির্বাচনী প্রচারে পুলিশের গুলিতে দুই চোখ হারানো মেরিনা বেগম ও সিরাজগঞ্জের ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ জয়ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

রিজভী বলেন, “এই বেদনা বিধুর দৃশ্য প্রতিদিনই হচ্ছে। আমরা যা বলছি তা যে এক বিন্দুও মিথ্যে নয় এটা তার প্রমাণ। সারা দেশ কারবালায় পরিণত করেছে সরকার।’’

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, তাদের বাড়িঘরে হামলা, নির্বাচনী প্রচারে পুলিশ ও সরকারি দলের হামলা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনার নানা চিত্র তুলে ধরেন রিজভী। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জিয়াউর রহমান খান, সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।