সঙ্কট উত্তরণে আবারো সংলাপের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

সঙ্কট উত্তরণে আবারো সংলাপের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

চলমান সঙ্কট উত্তরণে দাম্ভিকতা পরিহার করে সংলাপের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। সরকারের প্রতি এই আহ্বান রেখে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অহংকার-দাম্ভিকতা বাদ দিয়ে দেশকে রক্ষা করবার জন্যে, এই সংকট কাটিয়ে উঠবার জন্যে অবিলম্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করুন। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোট শরিক এনপিপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় মির্জা ফখরুল অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি হঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্যথায় এই দেশের মানুষ তাদের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করবে এবং দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবে। গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যকে ‘শিষ্টাচার বিবর্জিত’ অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সোমবার প্রধানমন্ত্রী যখন কথা বললেন, তার স্বর-সুর-কথা-ভাষার মধ্যে আমরা সেই এক নায়কের ভাষা শুনতে পেলাম, এক নায়কের চেহারা দেখতে পেলাম। আমরা সেই অহংকার, সেই দাম্ভিকতা দেখতে পেলাম। জনগণের জন্য যে শ্রদ্ধাবোধ-ভালোবাসা, মানুষের কল্যাণের জন্য যে বডি ল্যাংগুয়েজ-সেটা আমরা দেখতে পেলাম না। এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য অহিদুর রহমানের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বেলাল আহমেদ, মো. ফরিদউদ্দিন প্রমুখ।

গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টির আহ্বান
বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ করে তার মুক্তির জন্য গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য দেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, বিএফইউজে’র একাংশের শওকত মাহমুদ, এম আবদুল্লাহ, ড্যাবের অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ইলিয়াস খান, কাদের গনি চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, শিক্ষক কর্মচারি ঐক্যজোটের অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, জাকির হোসেন, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, ড্যাবের ডা. জাহিদুল কবির, ডা. শামিউল আলম সুহান প্রমুখ।