সংসদের বাজেট অধিবেশনে উঠছে ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’

সংসদের বাজেট অধিবেশনে উঠছে ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’

 গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষায় প্রণীত ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ এবং ‘সম্প্রচার আইন’ জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
 

‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ পাস হলে সাংবাদিকদের চাকরির নিশ্চয়তাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।  
 
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে ‘ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার’ নেতারা সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী একথা জানান।
 
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ এবং ‘সম্প্রচার আইন’ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য আছে। সামনে যে অধিবেশন সেটাতে সম্ভবপর হবে না প্রস্তাব করার, কারণ আগামীকাল (২৪ এপ্রিল) থেকে অধিবেশন। আমরা চেষ্টা করছি পরবর্তী অধিবেশনে যাতে এটাকে নিয়ে যেতে পারি। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে দ্রুত আমাদের কাছে আসার পর মন্ত্রিসভা হয়ে সেটি সংসদে উপস্থাপন হবে।
 
‘এ দু’টি আইন যখন কার্যকর হবে, যখন আইনে রূপান্তরিত হবে তখন আমি মনে করি আজকে যে সমস্যাগুলোর কথা বলছেন সেগুলোর আইনি প্রটেকশন আমরা দিতে পারবো, এটি অত্যন্ত জরুরি।’
 
গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তার জন্য উদ্যোগ নেবেন কিনা- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকর্মী আইন যখন হবে তখন চাকরির নিশ্চয়তা থেকে শুরু করে সব কিছুর আইনি সুরক্ষা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনটি দ্রুত সংসদে পাস করতে পারলেই সুরক্ষা তৈরি হবে।
 
চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের আপদকালীন ভাতা দেওয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রীর সহায়তা চান নেতারা। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে টিওআরের মধ্যে এখন শুধুমাত্র কেউ মারা গেলে, অসুস্থ হলে সেখানে সাহায্য করা যায়, অন্য কোনো কারণে সাহায্য করা যায় না। এরইমধ্যে আমরা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা করেছি টিওআর পরিবর্তন করার জন্য। যাতে সাংবাদিকরা সাহায্য পেতে পারেন।
 
তথ্যমন্ত্রী জানান, বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাইরে চলে যাচ্ছে, চ্যানেলগুলোতে অর্থ সংকট। এ সংকটের কারণে সাংবাদিক ভাই-বোনদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে বার্তা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, এগুলো কোনোটাই হতো না যদি বিদেশে বিজ্ঞাপন চলে না যেতো।
 
‘আর একটা সমস্যা নিউ মিডিয়া- ইউটিউব, ফেসবুক, নেটফ্লিক্স, গুগলে আমাদের দেশের অনেক বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে, যেগুলো থেকে আমরা কোনো ট্যাক্স পাচ্ছি না। এ বিষয়ে আমি আলোচনা করেছি, এগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য আমরা উদ্যোগ নেবো। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে অবশ্যই আনতে হবে এবং আমরা আনার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’
 
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে বিশৃঙ্খলভাবে করতে পারে না। সেখানে ইউটিউব, ফেসবুককে কোম্পানি হিসেবে রেজিস্ট্রার হতে হয়েছে। আমাদের দেশেও শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য, আমরা যাতে রেভিনিউ থেকে বঞ্চিত না হই এবং যথেচ্ছভাবে এখান থেকে সব বিজ্ঞাপনগুলো সেখানে চলে না যায়, এটাকেও একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। সে নিয়েও আমি প্রাথমিক আলোচনা করেছি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি সেগুলো বাস্তবায়ন করবো।
 
ডাউনলিঙ্ক ফি ৫ লাখ টাকা যেটি আছে সেটি খুবই নগণ্য। ডাউনলিঙ্ক ফি’র মধ্যে সমতা আনার দাবি যৌক্তিক। এটি আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
 
বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে আইনের কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
 
টিভি চ্যানেলগুলোর ক্রম ঠিক করার জন্য এ বছরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি সব সিটি করপোরেশনে সিস্টেম ডিজিটাল করে ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।
 
সাংবাদিক নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী জানান, এশিয়া সামিট আয়োজনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সহযোগিতা করা হবে।
 
জিটিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক ও সদস্য সচিব শাকিল আহমেদ এবং নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।