সংরক্ষিত বনে অবকাঠামো

সংরক্ষিত বনে অবকাঠামো

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সরকারের অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো অবকাঠামো (রাস্তাঘাট রেল লাইন বৈদ্যুতিক লাইন) নির্মাণ করায় ক্ষতিপূরণ আদায় করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বনবিভাগ ইতোপূর্বে নির্মিত এবং নির্মাণ চলমান এসব অবকাঠামোয় বনের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে। পরিবেশ বন, জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং এ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় কী পরিমাণ বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করেছে তার আংশিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে সংরক্ষিত বনে কী পরিমাণ রেল লাইন রয়েছে সেই তথ্য ওই বৈঠকে আসেনি। ওই বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা শেষে এসব অবকাঠামো নির্মাণ গাছ-গাছালিসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মন্ত্রণালয়কে তা নিরূপণের দায়িত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয় সরকারের কোন কোন সংস্থা কী পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের।

 এ ছাড়া সংরক্ষিত বনের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের প্রকল্প আর গ্রহণ করা না হয় সে সুপারিশও আসে বৈঠকে। বন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রটোকল তৈরি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় যাতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় নতুন কোনও প্রকল্প তৈরির সময় সংরক্ষিত বনের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের ভেতর রাস্তাঘাট, রেল লাইন ও বিদ্যুতের লাইন নির্মাণের কোনও সুযোগ নেই। দেশের ৮টি জেলার ২৪টি উপজেলার বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে ৪৫৭ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ, হাজারী খাল সংরক্ষিত বনের অভ্যন্তরে ৯ কিলোমিটার সড়ক, লিংকরোড থেকে টেকনাফ সড়কের দু’পাশে সড়ক  ও জনপথ রাস্তা সম্প্রসারণ সহ বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের প্রসঙ্গও আলোচিত হয় বৈঠকে। দেশের বনাঞ্চলকে বাঁচাতে এখন থেকেই সতর্ক না হলে চলবে না। আমাদের উন্নয়ন দরকার। তবে তা হতে হবে কোন কিছুকে ক্ষতি না করে। এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ চাই। এটা ঠিক, অনেক সময় জাতীয় স্বার্থে প্রকল্প নেওয়া হয়। আবার এটাও সত্য যে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও কিন্তু আমাদের জাতীয় স্বার্থের অংশ। সব কিছুকেই রক্ষা করতে হবে।