সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার

সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার

সারা দেশেই বিষয়টি যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে। অনেক জনপ্রতিনিধিকেই বিব্রত হতে হয়েছে। তারপরও থেমে নেই সংবর্ধনা। কোনো জনপ্রতিনিধির সংবর্ধনা বা এলাকায় আগমন উপলক্ষে রোদ-বৃষ্টি কিংবা কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টি যত অমানবিকই হোক কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান-প্রধানের অতি আগ্রহের কারণে এ দৃশ্য আমাদের বারবার দেখতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, এতে শিক্ষার্থীদের মনে এক ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পটুয়াখালীর দশমিনায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব) জাহিদ ফারুকের আগমন উপলক্ষে বৃষ্টির মধ্যে হাজির হাটে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন। এ সময় বৃষ্টির মধ্যে সড়কের দুই পাশে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজির হাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

সকাল সাড়ে দশটায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী উপজেলার হাজিরহাটে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন। আমাদের রাজনীতি বর্তমানে তোষণের দুষণে ব্যাপকভাবে দুষ্ট। এই তোষণ বাজির নানা কৌশলেই একটি হচ্ছে সংবর্ধনা নামের এ আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে বিষয়টি সরকারকে এতটাই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়েছিল শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে না রাখার জন্য। এরপরও বন্ধ করা যায়নি সংবর্ধনা নামের অতি সমালোচিত এই আয়োজন। দৃষ্টিকটু এই আনুষ্ঠানিকতা আজ অনেকটাই ছোঁয়াচে ব্যাধির মতো ছড়াচ্ছে এক জেলা থেকে আরেক জেলায়। এ ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আইন করে বন্ধ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। অপসংস্কৃতি অবসানে সোচ্চার হতে হবে সবাইকে।