শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সুপার ফোরে আফগানিস্তান

শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সুপার ফোরে আফগানিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক:

 রশিদ খানের গুগলি ঠিক মতো পড়তে পারলেন না লাসিথ মালিঙ্গা। লেগ স্পিনারের এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার। উল্লাস শুরু হয়ে গেল দুবাইয়ে।

আফগানিস্তান প্রথমবারের মতো হারাল শ্রীলঙ্কাকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারে ১৪তম এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিল শ্রীলঙ্কা। সুপার ফোরে যাওয়ার সুযোগ হলো না তাদের। সহজ জয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে আফগানিস্তান। আর আফগানিস্তানের জয়ে সুপার ফোরে উঠেছে বাংলাদেশও। শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে নিজেদের কাজ করে রেখেছিল বাংলাদেশ।

আবুধাবি স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ২৪৯ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস। ২৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২৪ রান করা শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ১৫৮ রানে। ৯১ রানের জয়ে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে হারানোর স্বাদ পেল আফগানিস্তান।
 

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল একশতে একশ। আর শ্রীলঙ্কা তিন বিভাগেই ফ্লপ। লঙ্কানদের বোলিং কিছুটা প্রশংসা পেতেও পারে। কিন্তু ফিল্ডিং ও ব্যাটিং ছিল যাচ্ছেতাই।  বিশেষ করে তাদের ব্যাটিং পারফরম্যান্সে হতাশ সবাই।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা কেউই দায়িত্ব নিতে পারেননি। শেষ পাঁচ ম্যাচে তাদের টপ অর্ডারের কোনো ব্যাটসম্যানের হাফ সেঞ্চুরি নেই। অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস অফফর্মে রয়েছেন। পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে তার বোঝাপাড়াটাও ভালো নয়। প্রথম ম্যাচের মতো আজকের ম্যাচেও তার সঙ্গে ভুলবোঝাবুঝিতে রান আউট হয়েছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে পাঁচবারের এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়নরা হাঁটছে উল্টো পথে।
আফগানিস্তানকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছেন ব্যাটসম্যান রহমত শাহ। ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান ৭২ রানের ইনিংস খেলেন ৯০ বলে। ৫ বাউন্ডারিতে সাজান ইনিংসটি। বড় কোনো ইনিংস না হলেও আফগানিস্তানের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে তার ইনিংসটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় উইকেটে তাকে সঙ্গ দেন ওপেনার এহসানউল্লাহ। ডানহাতি এ ওপেনার করেন ৪৫ রান। দুজনের জুটিতে আসে ৫০ রান। শুরুতে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ করেন ৩৪ রান। মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ রানের ইনিংস উপহার দেন হাসমতউল্লাহ শাহিদী। শেষ দিকে ৬ বলে ১৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন রশিদ খান। সব মিলিয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২৪৯ রানের পুঁজি পায় আফগানিস্তান।

বল হাতে শ্রীলঙ্কার হয়ে একাই লড়াই করেন থিসারা পেরেরা। ৫৫ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান ডানহাতি পেসার।

লক্ষ্য খুব বড় ছিল না শ্রীলঙ্কার। কিন্তু লড়াই করার মতো কেউ ছিল না তাদের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন কুশল মেন্ডিস। মুজিব-উর-রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হন ডানহাতি ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে থারাঙ্গা ও ধনাঞ্জয়া ৫৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। এ জুটি ভাঙার পরপরই ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানকে জয় উপহার দেন তারা।
 

 

ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন উপল থারাঙ্গা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে থিসারা পেরেরার ব্যাট থেকে। এছাড়া ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ২৩, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান।

আফগানিস্তানের তিন স্পিনারকে সামলাতে হিমশিম খায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা। মুজিব-উর-রহমান, মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান ২টি করে উইকেট নেন। ডানহাতি মিডিয়াম পেসার গুলবাদিন নাইব নেন ২টি উইকেট।

এর আগে শ্রীলঙ্কার কাছে ওয়ানডেতে দুবার হেরেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় মুখোমুখিতেই জয়ের খাতা খুলল আফগানরা।