মে দিবসের কর্মসূচি বাধা

শ্রমিক দল নালিশ জানাবে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নকে

শ্রমিক দল নালিশ জানাবে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নকে

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : মে দিবসে শোভাযাত্রা করতে বাধা পাওয়ার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নকে জানাবে বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবসে মঙ্গলবার এই কর্মসূচি পালন করতে না পারার পর এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমরা (শ্রমিক দল) আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য। বাংলাদেশ আইএলও‘র সদস্য। বাংলাদেশ আইএলও‘র কনভেশন-৮৭ বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যেখানে ফ্রিডম অব অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করার কথা, সেখানে আজকে আমাদেরকে সেটা করতে দেওয়া হলো না।

আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে আমরা কখন কোন প্রোগ্রাম করি, সেটা আমাদেরকে জানাতে হয়। এই যে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারলাম না, কেন পারলাম না, সেটাও আমাদেরকে জানাতে হবে, আমরা জানাব। এদিন সকাল ১১টায় নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শ্রমিক দলের শোভাযাত্রা বের হওয়া কথা ছিল। বিএনপি নেতারা জানান, সোমবার রাতে পল্টন মডেল থানার ওসি শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ নেতাদের ডেকে শোভাযাত্রা না করতে বলেন। শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শ্রমিক দল রেজিস্ট্রিকৃত সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরকে অনুমতি না দেওয়ায় এটা স্পষ্ট হল যে, পুলিশ একদলীয় কর্তৃত্ববাদী সরকারের নির্দেশনা পালন করছে। শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম বলেন, আজকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হাজার হাজার শ্রমিক মিছিল-মিটিং করছে। অথচ আমরা দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন, আমাদের মিছিল করতে অনুমতি দেওয়া হল না। এই সরকারের পুলিশ বাহিনী ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

এটা নিন্দনীয়। বিভিন্ন সংগঠনের মে দিবসের কর্মসূচি পালনের বিষয়টি তুলে ধরে নজরুল বলেন, সেটা যদি সম্ভব হয়, সেটা যদি অন্যায় না হয়, যেটা যদি বেআইনি না হয়,  তাহলে নয়া পল্টন থেকে আমাদের মিছিল প্রেস ক্লাবে যেতে বাধা কীসের? এখনও তো এদেশে ১৯৭৫ সালের মতো একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করা হয় নাই। তাহলে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল কিংবা প্রধান বিরোধী শ্রমিক সংগঠনকে বাধা দেওয়া হবে কেন? সরকার যদি এটাই চায় যে বিএনপি বা তার সঙ্গে যুক্ত কোনো সংগঠনকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না, তাহলে আইন করে দিক, সারা দুনিয়া জানুক যে এই সরকার কী চায়? শ্রমিক দল এবার মে দিবসে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চেয়েছিল, তার অনুমতি না পাওয়ার পর শোভাযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছিল, তাও করতে পারেনি। নজরুল বলেন, এই তথ্য যখন বিশ্ববাসী জানবে তখন জার্মানির সেই রিপোর্ট যে ‘বাংলাদেশ একটা স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে’, এটা তাদের সেই রিপোর্টকে শক্তিশালী করবে। অনিবার্যভাবে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সম্মুখীন হতে হবে সরকারকে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ফজলুল হক মোল্লা, মনজুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।