শেষ মুহূর্তে থেমে গেল চন্দ্রযান ২-এর অভিযান

শেষ মুহূর্তে থেমে গেল চন্দ্রযান ২-এর অভিযান

শেষ মুহূর্তে থেমে গেল ভারতের চন্দ্রযান ২-এর অভিযান। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মুখোমুখি হতে চলেছিল ভারত। সব প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত রাত ২টা ৫১ মিনিটে চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও তা আর হলো না। যান্ত্রিট ত্রুটির কারণে অভিযান থেমে গেল।

এর আগে ২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল চন্দ্রাযান ১। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ওই যানটি চন্দ্রপৃষ্ঠ স্পর্শ করতে পেরেছিল।


নির্ধারিত সময়ের ৫৬ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে ত্রুটি ধরা পড়ে ওই যানটির। ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রকেট থেকে জ্বালানি লিক করছে। কখন সেটা উৎক্ষেপণ করা হবে মাঝরাত পর্যন্তও সে বিষয়ে তারা কিছুই জানাননি। তবে খুব দ্রুত এ বিষয়ে জানানো হবে।

৩.৮ টনের চন্দ্রযানের ক্যাপসুলে মূল অংশ তিনটি। অর্বিটার, ল্যান্ডার ও রোভার। এদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কাজ আছে। অর্বিটারটি চন্দ্রপৃষ্ঠের ও চাঁদের খনিজের ছবি তুলবে ও ম্যাপিং করবে। ল্যান্ডার অংশের ওজন ১ হাজার ৪৭১ কিলোগ্রাম। চাঁদের ভূমিকম্প ও চাঁদের তাপমাত্রা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ করবে এটি।

পাশাপাশি প্রজ্ঞান নামের ২৭ কিলোগ্রামের ছয় চাকার চলমান যানের মাধ্যমে চাঁদের মাটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারতের এই চন্দ্রযান চাঁদের দক্ষিণ প্রান্তে পর্যবেক্ষণ চালাবে। ১৪ দিন ধরে চাঁদের আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সফর করবে এই রোভার।

৬৪০ টনের জিয়োসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল মার্ক থ্রি (জিএসএলভি এমকে-৩) ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট। এই রকেট বানাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা। ৪৪ মিটার উঁচু এই রকেটের উচ্চতা প্রায় ১৫ তলা বিল্ডিং-এর সমান।

এই রকেটের একটা ডাকনামও আছে। ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী এই রকেটের ডাকনাম দেয়া হয়েছে ‘বাহুবলী’। জনপ্রিয় দক্ষিণী সিনেমা বাহুবলীতে কাঁধে পাথরের ভারি শিবলিঙ্গ তুলে নিয়েছিলেন বাহুবলী। চন্দ্রযানকেও যেন অনেকটা সেভাবেই মহাকাশে নিয়ে যাবে জিএসএলভি। তাই এমন অভিনব নাম দেয়া হয়েছে এই রকেটের।

ইসরো জানিয়েছে, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতো শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল রকেট ভারতের নেই। তাই পৃথিবীর চারপাশে পাক খাইয়ে খাইয়ে চন্দ্রযানকে একটু করে দূরে পাঠানো হবে। নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছে গেলে এক এরপর সরাসরি এটি চাঁদের কক্ষপথে ঢুকবে। তার পর ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে একে চাঁদের দিকে ক্রমশ ঠেলে দেওয়া হবে। পৃথিবীর চারপাশে পাক খাইয়ে দূরে ছুড়ে দেওয়ার এই প্রযুক্তির প্রয়োগ মঙ্গল অভিযানেও করা হয়েছিল এবং প্রথম বারেই তা সফল হয়েছে।