শেষ দিন বুধবার, মনোনয়ন জমা দিতে ৭ জনের বেশি নয়

শেষ দিন বুধবার, মনোনয়ন জমা দিতে ৭ জনের বেশি নয়

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা অংশ নিতে চান, তাদের মনোনয়নপত্র জমার সুযোগ শেষ হচ্ছে বুধবার। যারা শেষ দিনে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের আচরণবিধির কথা মনে করিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন বলেছে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনোভাবেই ৫ থেকে ৭ জনের বেশি কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নেওয়া যাবে না।

সেই সঙ্গে সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের ‘প্রটোকল’ ছাড়াই মনোনয়নপত্র জমা দিতে যেতে হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর বুধবার শেষ হচ্ছে মনোনয়ন জমার শেষ দিন। ২ ডিসেম্বর বাছাই, ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ভোট ৩০ ডিসেম্বর।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মঙ্গলবার ইসির মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “বুধবার মনোনয়ন জমার শেষ দিন। মনোনয়ন জমার সময় কোনো মিছিল শোডাউন করা যাবে না। কেউ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “বাস-ট্রাক যানবাহন, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মশাল মিছিল করা যাবে না। ইতোমধ্যে অনেকে শোডাউন করার চেষ্টা করেছে; রিটার্নিং অফিসারকে বলে দিয়েছি, যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, পতাকাসহ গাড়ি নিয়ে মন্ত্রী-এমপিরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে যেতে পারবেন না। কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নিজ এলাকায় গেলে পতাকা নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। ‘সংসদ সদস্য’ লেখা স্টিকার ব্যবহারও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তিনি বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে রির্টানিং অফিসার ও নির্বাহী হাকিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইলেকটোরাল এনকোয়রি কমিটিও করা হয়েছে।

ভোটের প্রচারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা যাবে না জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, “নির্বাচনী প্রচারের যাতায়াতে শুধু দলীয় প্রধানরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হেলিকপ্টার থেকে লিফলেট বিতরণ করা যাবে না।”

তবে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আগাম প্রচার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের করণীয় কিছু দেখছেন না ইসি সচিব।

তিনি বলেন, “সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়ে আমরা কিছুই বলিনি, এটা আচরণবিধিতে আনার সুযোগ নেই। তবে সোশাল মিডিয়ায় যেন অপপ্রচার না হয় এই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।”

নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার জরিমানা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে ইসির। রাজনৈতিক দল বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।